২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বেজে গিয়েছে। আর সেই আবহে মালদহের মানিকচকে নির্বাচনী সভায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে এক চাঞ্চল্যকর স্মৃতি রোমন্থন করলেন শুভেন্দু অধিকারী। তৃণমূলের প্রাক্তন সেনাপতি এবং বর্তমান বিজেপি নেতা শুভেন্দু দাবি করেছেন, ২০১৬ সালের নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জয়ের নেপথ্যে থাকা অনেক ঘটনারই তিনি ‘সাক্ষী’।
কী বললেন শুভেন্দু অধিকারী? মানিকচকের জনসভায় ভিড়ে ঠাসা ময়দানে শুভেন্দু বলেন:
২০১৬-র স্মৃতি: “২০১৬ সালে আমি ওঁর (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) সঙ্গেই এই মালদহে এসেছিলাম। তখন উনি কী কী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন আর পর্দার আড়ালে কী হয়েছিল, তার সবেরই আমি সাক্ষী।”
বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ: শুভেন্দুর দাবি, মালদহের মানুষের আবেগ নিয়ে খেলে সেবার ভোট বৈতরণী পার করেছিল তৃণমূল, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। গঙ্গা ভাঙন থেকে শুরু করে কর্মসংস্থান—সব ক্ষেত্রেই মানিকচক বঞ্চিত থেকেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
‘সাক্ষী’ হিসেবে হুঁশিয়ারি: তিনি সাফ জানান, একসময় দলের অন্দরে থাকায় তিনি জানেন কীভাবে ভোট পরিচালনা করা হয়েছিল। এবার ২০২৬-এ আর সেই ‘পুরোনো ফর্মুলা’ খাটবে না বলে তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন।
কেন এই মন্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ? শুভেন্দু অধিকারী একসময় তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড ছিলেন। বিশেষ করে ২০১৬-র নির্বাচনে মালদহ ও মুর্শিদাবাদে দলের মাটি শক্ত করতে তাঁর বড় ভূমিকা ছিল। এখন সেই পুরোনো অভিজ্ঞতাকেই হাতিয়ার করে মমতাকে বিঁধছেন তিনি। তাঁর এই ‘সাক্ষী’ থাকার দাবি রাজনৈতিক মহলে জল্পনা বাড়িয়েছে—তবে কি ২০১৬-র কোনও নির্বাচনী কৌশল বা গোপন সমঝোতার দিকে ইঙ্গিত করছেন তিনি?
মালদহের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট: মালদহ একসময় কংগ্রেসের দুর্গ হিসেবে পরিচিত থাকলেও ২০১৬-র পর থেকে সেখানে তৃণমূল এবং পরবর্তীতে বিজেপির প্রভাব বেড়েছে। শুভেন্দু নিজের ভাষণে বারবার ‘ভাঙন সমস্যা’ এবং ‘পরিযায়ী শ্রমিক’ ইস্যু তুলে ধরে মানিকচকের মানুষের মন জয়ের চেষ্টা করেছেন।
বিরোধী দলনেতার এই মন্তব্যের পর তৃণমূলের পক্ষ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না এলেও, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে ‘ব্যক্তিগত আক্রমণের’ এই পারদ আরও চড়বে।





