ঝকঝকে আধুনিক মঞ্চ, আর সেখানে উপস্থিত খোদ তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কম্যান্ড। তবে এটি আর পাঁচটা সাধারণ রাজনৈতিক সভার মতো ছিল না। বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নজিরবিহীন সভার সাক্ষী থাকল আলিপুরদুয়ার। মঞ্চে ‘তিন ভূত’-এর প্রতীকী উপস্থিতি থেকে শুরু করে সাদা চিরকুটে জনতার সরাসরি প্রশ্নোত্তর—সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘রণ সঙ্কল্প সভা’ এখন রাজ্য রাজনীতির হট টপিক।
সাদা চিরকুটে সরাসরি সওয়াল-জবাব ২০২৫-এর নির্বাচনে আলিপুরদুয়ারের পাঁচটি আসনেই পরাজিত হয়েছিল তৃণমূল। সেই হারানো জমি পুনরুদ্ধারে এদিন রণংদেহি মেজাজে ধরা দিলেন অভিষেক। সভার বিশেষ আকর্ষণ ছিল ‘প্রশ্নোত্তর পর্ব’। সাধারণ মানুষ সাদা চিরকুটে তাঁদের অভিযোগ ও অভাবের কথা লিখে জমা দেন। মঞ্চে পায়চারি করতে করতে সেই চিরকুট হাতে নিয়ে একে একে উত্তর দেন জননেতা।
আর্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি চিরকুটে উঠে আসে হাসপাতাল, ডাক্তার ও অ্যাম্বুল্যান্সের অভাবের কথা। অভিষেক স্পষ্ট জানান, তিনি ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে কথা বলেছেন এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেবেন। সভার মাঝেই নজর কাড়ে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা। মিক নাগাসিয়া নামে এক যুবক বিয়ের টাকা পাননি বলে অভিযোগ করেন। অভিষেক মঞ্চ থেকেই তাঁকে প্রশ্ন করেন, “বিয়ে হয়ে গিয়েছে আপনার?” উত্তর ‘হ্যাঁ’ আসতেই অভিষেক আশ্বস্ত করেন, “আবেদনপত্র আমাকে পাঠান, আমি ব্যবস্থা করছি।”
বিজেপিকে কড়া আক্রমণ এদিন আলিপুরদুয়ারের মানুষকে অভিষেক মনে করিয়ে দেন, তৃণমূল হারলেও লক্ষ্মীর ভাণ্ডার কিন্তু বন্ধ হয়নি। তিনি বলেন, “তৃণমূল আর বিজেপির এটাই পার্থক্য। বিজেপি হারলে অনুদান বন্ধ করে দেয়, টাকা আটকে দেয়। আমরা মিথ্যে বলি না, যা বলি তাই করি।” চা-শ্রমিক থেকে পরিযায়ী শ্রমিকের পরিবার—সবার অভিযোগ শুনে যথাযথ পরিষেবা দেওয়ার অঙ্গীকার করেন তিনি।
বাংলার রাজনীতিতে অভিষেকের এই ‘পাবলিক কানেক্ট’ কৌশল আগামী ২৬-এর ভোটে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।