তৃণমূল কংগ্রেস যখন ইতিহাসের অন্যতম গভীর অভ্যন্তরীণ সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে, ঠিক সেই মুহূর্তেই দলের অন্দরে তৈরি হওয়া বিদ্রোহের জল্পনা নিয়ে মুখ খুললেন আসানসোলের সাংসদ শত্রুঘ্ন সিনহা। বিদ্রোহী ১৯ জন সাংসদের তালিকায় তাঁর নাম থাকার যে দাবি উঠেছিল, তা স্পষ্টভাবে খারিজ করে দিয়ে শত্রুঘ্ন জানিয়েছেন, তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেই আছেন এবং থাকবেন।
মমতার প্রতি আনুগত্য ও কৃতজ্ঞতা: ‘ইন্ডিয়া টুডে’-কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে বর্ষীয়ান এই অভিনেতা-রাজনীতিবিদ স্পষ্ট করেন, তাঁর রাজনৈতিক জীবনের কঠিন সময়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই তাঁকে আশ্রয় দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, “২০১৯-এর নির্বাচনে হারের পর যখন আমি অন্ধকারে ছিলাম, তখন মমতাদি আমাকে আসানসোল থেকে লড়ার সুযোগ দিয়েছিলেন। এমন নেত্রীকে আমি কঠিন সময়ে ছেড়ে যেতে পারি না।”
অভিষেক প্রসঙ্গ ও নেতৃত্বের টানাপোড়েন: দলের অন্দরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব নিয়ে যে বিদ্রোহ দানা বেঁধেছে, সে বিষয়ে সরাসরি প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন শত্রুঘ্ন। তিনি সাফ জানান, “দলে আমার নেত্রী একজনই—মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্য কাউকে আমি ওই অবস্থানে চিনি না বা স্বীকার করি না। আমার সব নির্দেশ আদান-প্রদান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেই হয়েছে।”
বিদ্রোহী তালিকার গুঞ্জন: লোকসভার স্পিকারের কাছে এনডিএ-র প্রতি আনুগত্য জানিয়ে ১৯ জন সাংসদের যে চিঠির কথা শোনা যাচ্ছে, তাতে নিজের নাম থাকা প্রসঙ্গে শত্রুঘ্ন বলেন, “আমি কোনও চিঠিতে সই করিনি। বিদ্রোহী কেউ আমার সঙ্গে যোগাযোগও করেনি।” তিনি আরও যোগ করেন, “কেউ যদি আমাকে সত্য বলার জন্য বিদ্রোহী মনে করেন, তবে আমি তাই। কিন্তু এই গোষ্ঠীর সঙ্গে আমার নাম জড়ানো উচিত নয়।”
তৃণমূল-কংগ্রেস সমঝোতা ও ভবিষ্যৎ: তৃণমূলের ভবিষ্যৎ এবং কংগ্রেসের সঙ্গে সম্ভাব্য সংযুক্তির গুঞ্জন নিয়ে তিনি জানান, এ ধরনের কোনো আলোচনার বিষয়ে তিনি অবগত নন। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও রাহুল গান্ধীর মধ্যে সহযোগিতা দেশের গণতন্ত্রের জন্য মঙ্গলজনক হবে বলেই মনে করেন তিনি।
শত্রুঘ্ন সিনহার এই মন্তব্য তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরের জন্য বড় ধাক্কা বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। একদিকে যখন তৃণমূল থেকে নেতাদের দলত্যাগের হিড়িক পড়েছে, তখন এই প্রবীণ সাংসদের মমতাকেন্দ্রিক এই অবস্থান শাসকদলের জন্য বড় স্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াল।





