বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মহম্মদ শাহাবুদ্দিন যেন আর রাষ্ট্রপতি ভবনে থাকতে চাইছেন না। সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক বিস্ফোরক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, তিনি নিজের পদে থেকে ‘অপমানিত বোধ করছেন’ এবং আগামী বছর ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন শেষ হলেই তিনি পদ থেকে ‘বিদায় নেবেন’।
আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হিসেবে বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় ২০২৩ সালে দেশের ১৬তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন ৭৫ বছর বয়সী শাহাবুদ্দিন।
ইউনুসের সঙ্গে বৈঠক হয়নি একবারও
রাষ্ট্রপতি জানান, গত সাত মাসে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নোবেলজয়ী মহম্মদ ইউনুসের সঙ্গে তাঁর একবারও বৈঠক না হওয়া তাঁর মনোকষ্টকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে তাঁর ক্ষোভের মূল কারণ আরও গুরুতর।
শাহাবুদ্দিনের অভিযোগ, বিদেশে বাংলাদেশের দূতাবাস ও হাইকমিশনগুলি থেকে রাষ্ট্রপতির ছবি রাতারাতি সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
তাঁর কথায়, “রাষ্ট্রপতির ছবি থাকে এটা তো রাষ্ট্রেরই মর্যাদা। কিন্তু এক রাতের মধ্যে সব ছবি তুলে দেওয়া হল! আমি গভীরভাবে অপমানিত।”
তিনি আরও জানান, এই ঘটনা সম্পর্কে চিঠি লিখে ইউনুসকে অবগত করলেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তাঁর আশঙ্কা, এই পদক্ষেপ জনগণের কাছে ভুল বার্তা পৌঁছে দিতে পারে এবং তাঁকে যেন ইচ্ছে করেই ‘গুরুত্বহীন’ করে তোলা হচ্ছে।
নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত পদে থাকতে বাধ্য
যদিও মনঃকষ্ট থাকা সত্ত্বেও সাংবিধানিক দায়িত্বের কারণেই তিনি এখনও পদত্যাগ করতে পারছেন না। তাঁর ভাষায়, “আমি যেতে চাই। কিন্তু নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত আমাকে দায়িত্বে থাকতে হবে, সংবিধান তাই বলছে।”
উল্লেখ্য, বাংলাদেশে পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি। নির্বাচন কমিশনার এ.এম.এম. নাসির উদ্দিন আশ্বস্ত করেছেন, নির্বাচন হবে “স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও অর্থবহ”।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের অগাস্টে ব্যাপক গণবিক্ষোভের মুখে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন শেখ হাসিনা। তারপর থেকেই দেশের শাসনভার সামলাচ্ছেন মহম্মদ ইউনুস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। এদিকে ভারতে আশ্রয় নেওয়া প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দেশে মৃত্যুদণ্ডের সাজা ঘোষণা হয়েছে এবং তাঁকে দ্রুত ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে ঢাকা।