পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া বা এসআইআর (SIR) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের কড়াকড়ি এবার সরাসরি টার্গেট করল খোদ শাসকদলের সাংসদকে। অভিনেতা দেবের পর এবার শুনানিতে ডাক পেলেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ সামিরুল ইসলাম। ১৯ জানুয়ারি, সোমবার সকাল ১১টায় তাঁকে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কমিশনের বিরুদ্ধে ‘পরিকল্পিত হেনস্থা’র অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।
ক্ষুব্ধ সাংসদের বিস্ফোরক প্রশ্ন: রামপুরহাটের হাঁসনের বাসিন্দা সামিরুল ইসলামের পরিবার দেশ স্বাধীন হওয়ার আগে থেকেই ওই এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা। তলব পাওয়ার পর ক্ষোভ উগরে দিয়ে সামিরুল বলেন, “আমি রাজ্যসভার সাংসদ, আমার ভারতীয় নাগরিকত্বের প্রমাণ রয়েছে। তা সত্ত্বেও আমাকে কেন ডাকা হলো? আমি বাংলা ভাষা নিয়ে আন্দোলন করেছি বলেই কি এই প্রতিহিংসা?” তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, যদি একজন সাংসদকেই এভাবে ডাকা হয়, তবে সাধারণ মানুষের কী দশা হবে?
দিল্লিতে প্রতিবাদের হুঙ্কার অভিষেকের: সাংসদ সামিরুলকে তলবের দিনেই নির্বাচন কমিশনকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, “নির্বাচন কমিশনকে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি বা যৌক্তিক অসঙ্গতির তালিকা প্রকাশ করতে হবে। কেন শুধু পশ্চিমবঙ্গকেই নিশানা করা হচ্ছে? উত্তর না পেলে কলকাতা এবং দিল্লিতে গণতান্ত্রিক প্রতিবাদ শুরু হবে।” সরাসরি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে অভিষেক বলেন, “প্রতিবাদ শুরু হলে উনি বাংলার শক্তি বুঝতে পারবেন।”
তালিকায় দেব থেকে শামি: উল্লেখ্য, এর আগে অভিনেতা-সাংসদ দেব, কবি জয় গোস্বামী, ক্রিকেটার মহম্মদ শামি এবং লক্ষ্মীরতন শুক্লার মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিদেরও শুনানিতে ডেকেছে কমিশন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই অসুস্থ ও বৃদ্ধদের ক্ষেত্রে বাড়িতে গিয়ে শুনানির দাবি জানিয়েছেন। কিন্তু কমিশনের অনড় মনোভাবের ফলে রাজ্য ও কমিশনের সংঘাত এখন তুঙ্গে।