‘আমি কালির ব্যাটা কমলাকান্ত’, তাই এখানে দেবী কমলাকান্তকালী! গঙ্গা কেন ছুটে এসেছিলেন এই মন্দিরে?

পূর্ব বর্ধমানের বোরহাট এলাকায় অবস্থিত কমলাকান্ত কালিবাড়ি রাজ্যের অন্যতম বিখ্যাত তন্ত্র সাধনার ক্ষেত্র। এই মন্দির এবং এর অধিষ্ঠাত্রী দেবী পরিচিত সাধক কমলাকান্তের (Sadhak Kamalakanta) সঙ্গে জড়িয়ে থাকা বহু অলৌকিক কাহিনি এবং বিশেষ রীতিনীতির জন্য।

কমলাকান্তকালী নামের রহস্য:

সাধক কমলাকান্ত নিজেকে বলতেন, ‘আমি কালির ব্যাটা কমলাকান্ত’। এই নামেই তিনি দেবীর সাধনা করতেন। সেই সূত্রেই এই মন্দিরে দেবী কমলাকান্তকালী নামেই পরিচিত।

পঞ্চমুণ্ডীর আসন: কথিত আছে, রাজা তেজচাঁদের আমন্ত্রণে বর্ধমান রাজসভায় এসে ১৮০৯ খ্রিস্টাব্দে তিনি এই মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন এবং এখানে পঞ্চমুণ্ডীর আসন স্থাপন করে দেবীর সাধনা শুরু করেন।

অলৌকিক কাহিনি ও গঙ্গার আগমন:

সাধক কমলাকান্তের জীবনে বহু অলৌকিক কাহিনি প্রচলিত। যেমন—তিনি রাজাকে অমাবস্যার রাতে পূর্ণিমার চাঁদ দেখিয়েছিলেন এবং কারণকে দুধে পরিণত করেছিলেন। তবে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো তাঁর দেহত্যাগ পর্ব।

কথিত আছে, যখন সাধকের অন্তর্জলী যাত্রা করার সময় হয়, তখন তিনি বলেছিলেন, “আমি মাকে ছেড়ে যেতে চাই না, আমাকে মায়ের থেকে আলাদা করবেন না।” তাঁর জীবনের শেষ গান ছিল—’কি গরজ আমি গঙ্গা তীরে যাব… কালো মায়ের কালো ছেলে বিমাতার কি স্মরণ নেব’। গান গাওয়ার সময়ই তিনি দেহত্যাগ করেন। প্রচলিত বিশ্বাস, গঙ্গা নিজেই এসেছিলেন এই মন্দিরে, মাটি ভেদ করে জল এসে পড়েছিল তাঁর মুখে। সেই স্থানে একটি কুয়ো রয়েছে, আজও পুজোর সব কাজ ও ভোগ রান্না করা হয় সেই জলেই।

সমাধির ওপর বেদিতে পুজো:

সাধক প্রতি অমাবস্যায় দেবীর মূর্তি গড়ে নিজের বুকের ওপর রেখে পুজো করতেন। তাঁর মৃত্যুর পর তাঁকে সমাধিস্থ করা হয়েছিল মন্দিরের মধ্যে এবং সেই সমাধির উপরেই তৈরি করা হয় বেদি। সেখানেই পূজিত হন দেবী কমলাকান্তকালী।

ভোগের বিশেষত্ব: সাধক দেবীকে মাগুর মাছ না হলে শোল মাছের ভোগ দিতেন। তাই প্রতি অমাবস্যাতে আজও দেবীকে মাগুর মাছ অথবা শোল মাছ ভোগ হিসেবে দেওয়া হয়। এছাড়াও তেরো রকমের ভাজা, খিচুড়ি, পায়েস, পোলাও ইত্যাদি ভোগে লাগে।

বর্তমানে পশু বলির প্রথা বন্ধ থাকলেও, নিয়ম মেনে আখ বা চাল কুমড়ো বলি দেওয়া হয়।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy