আমার হুমকির পরই থামে ভারত-পাক যুদ্ধ!’, ফের বোমা ফাটালেন ট্রাম্প, বিমানের সংখ্যা নিয়ে ধোঁয়াশা

ফের একবার ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যেকার যুদ্ধবিরতির কৃতিত্ব নিজের বলে দাবি করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার ফ্লোরিডায় এক বিজনেস ফোরামের অনুষ্ঠানে ট্রাম্প দাবি করেন, গত মে মাসে তিনি দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশকে হুমকি দিয়েছিলেন যে সংঘাত না থামালে বাণিজ্য চুক্তি বাতিল করা হবে। তাঁর সেই হুমকির জেরেই শান্তি সমঝোতা সম্ভব হয়েছে। যদিও ভারত শুরু থেকেই ট্রাম্পের এই মধ্যস্থতার দাবি বারবার খারিজ করে দিয়েছে।

মিয়ামিতে ভাষণ দিতে গিয়ে ট্রাম্প একটি নতুন তথ্য দিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি করেছেন। তিনি দাবি করেন, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সামরিক সংঘাতের সময় আটটি যুদ্ধবিমান গুলি করে নামানো হয়েছিল। এর আগে তিনি সাতটি বিমান ভূপাতিত হওয়ার কথা বলেছিলেন। কোন দেশের বিমান নামানো হয়েছিল, তা যদিও তিনি নির্দিষ্ট করেননি।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এদিন জানান, তিনি আট মাসের মধ্যে কসোভো-সার্বিয়া এবং কঙ্গো-রুয়ান্ডা সহ দীর্ঘদিনের মোট আটটি যুদ্ধের অবসান ঘটিয়েছেন। এই প্রসঙ্গেই তিনি ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “পাকিস্তান এবং ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে কথা বলছিলাম। পরে জানতে পারলাম তাদের মধ্যে যুদ্ধ হচ্ছে। তাদের এই যুদ্ধে আটটি যুদ্ধবিমান গুলি করে নামানো হয়েছিল।”

এরপরই তাঁর চাঞ্চল্যকর দাবি, তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে শান্তি স্থাপন না করলে কোনও বাণিজ্য চুক্তি হবে না। ট্রাম্প বলেন, “আমি বলেছিলাম, এই সংঘাতের সঙ্গে সবকিছুরই সম্পর্ক আছে। দুটি দেশই পারমাণবিক দিক থেকে শক্তিধর। তাই যুদ্ধের পরিস্থিতি বজায় থাকলে আমি বাণিজ্য করব না।” তাঁর দাবি, এর একদিন পরই ফোন আসে যে দুই দেশ শান্তি স্থাপন করেছে। এই সাফল্য শুল্ক আরোপের বিষয়টি না থাকলে সম্ভব হতো না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

ট্রাম্প এর আগেও ১০ মে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘোষণা করেছিলেন যে ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতায় দীর্ঘ আলোচনার পর ভারত ও পাকিস্তান পূর্ণ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। ভারত অবশ্য কোনো তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপের দাবি ধারাবাহিকভাবে প্রত্যাখ্যান করে চলেছে। উল্লেখ্য, ২২ এপ্রিলের জঙ্গি হামলার প্রতিশোধে ভারত ৬ মে রাতে ‘অপারেশন সিঁদুর’ শুরু করে। এরপর টানা চার দিনের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ১০ মে দু’দেশ সংঘাতের অবসানে সমঝোতায় পৌঁছয়।

মায়ামিতে ট্রাম্প আরও জানান, তিনি ইজরায়েল ও ইরান, মিশর ও ইথিওপিয়া, আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান সহ মোট আটটি দেশের সংঘাত সমাধানেও সাহায্য করেছেন। তাঁর কথায়, “এরা সকলেই যুদ্ধে লিপ্ত ছিল… আমি এক ঘন্টার মধ্যে এর কিছু সমাধান করে ফেলেছি। জাতিসঙ্গ থেকে কোনও সাহায্য পাইনি।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, আমেরিকা বিশ্বজুড়ে শক্তির মাধ্যমে শান্তি স্থাপন করছে, কারণ তারা জানে যে কোনও দেশ তাদের সঙ্গে সংঘাতে জড়াতে রাজি হবে না।