ভারতীয় ক্রিকেটের অন্যতম বিতর্কিত এবং স্পষ্টভাষী ব্যক্তিত্ব গৌতম গম্ভীর আবারও খবরের শিরোনামে। তবে এবার কোনো ক্রিকেটীয় মন্তব্য বা আইপিএল কৌশলের জন্য নয়, গম্ভীর সংবাদ শিরোনামে এসেছেন নিজের সম্মান রক্ষার লড়াইয়ে। ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার অভিযোগে বেশ কিছু সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে এবার দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন টিম ইন্ডিয়ার বর্তমান প্রধান কোচ।
আসল ঘটনাটি কী? বেশ কিছু দিন ধরেই সোশ্যাল মিডিয়া এবং বিভিন্ন ডিজিটাল নিউজ পোর্টালে গৌতম গম্ভীরকে নিয়ে নানা ধরনের খবর প্রকাশিত হচ্ছিল। অভিযোগ উঠেছে, কয়েকটি সংবাদমাধ্যম গম্ভীরের ব্যক্তিগত জীবন এবং তাঁর পেশাদারিত্ব নিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নেতিবাচক ও ভিত্তিহীন খবর প্রচার করছে। গম্ভীরের দাবি, এই ধরনের সংবাদ পরিবেশনের ফলে জনসাধারণের কাছে তাঁর ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে এবং তাঁর দীর্ঘদিনের অর্জিত সম্মানে আঘাত লাগছে।
গৌতম গম্ভীরের আইনজীবী আদালতে জানিয়েছেন যে, নির্দিষ্ট কিছু সংবাদ সংস্থা ক্রমাগত তাঁকে লক্ষ্য করে অবমাননাকর প্রতিবেদন প্রকাশ করে চলেছে। এই প্রতিবেদনে দেওয়া তথ্যগুলি কেবল অসত্যই নয়, বরং তাঁর সামাজিক মর্যাদাহানির একটি পরিকল্পিত প্রচেষ্টা। এরই প্রেক্ষিতে গম্ভীর দিল্লি হাইকোর্টে মানহানির মামলা দায়ের করেছেন এবং অবিলম্বে এই ধরনের সংবাদ প্রচার বন্ধের নির্দেশ চেয়েছেন।
আদালতে গম্ভীরের আরজি আদালতে পেশ করা পিটিশনে গম্ভীর আবেদন করেছেন যে, যে সমস্ত সংবাদমাধ্যম তাঁর বিরুদ্ধে কুরুচিকর এবং ভিত্তিহীন তথ্য ছড়াচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে যেন কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়। একইসাথে, ওই ডিজিটাল কন্টেন্টগুলো ইন্টারনেটের সব মাধ্যম থেকে সরিয়ে ফেলারও আর্জি জানিয়েছেন তিনি। গম্ভীরের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, সমালোচনা গ্রহণ করা যায় কিন্তু কারোর চরিত্রহনন কোনোভাবেই কাম্য নয়।
পূর্বের ইতিহাস ও বর্তমান পরিস্থিতি গৌতম গম্ভীর সবসময়ই সোজা কথা বলতে ভালোবাসেন, যার ফলে অনেক সময় বিতর্কের কেন্দ্রেও থাকেন তিনি। রাজনীতি হোক বা ক্রিকেট, নিজের অবস্থান স্পষ্ট রাখতে তিনি কখনও পিছপা হননি। বর্তমানে ভারতীয় দলের কোচ হিসেবে তাঁর ওপর বড় দায়িত্ব রয়েছে। এমন সময়ে এই আইনি পদক্ষেপ বুঝিয়ে দিচ্ছে যে, মাঠের বাইরের বাউন্সারগুলোকেও তিনি সমান দক্ষতায় সামলাতে প্রস্তুত। এখন দেখার বিষয়, দিল্লি হাইকোর্ট এই বিষয়ে কী রায় দেয় এবং সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলোর বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়।