মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং বিরোধী দলনেতার বিরুদ্ধে তোপ দাগছেন, ঠিক তখনই সেই আক্রমণকে হাসিমুখে উড়িয়ে দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। এদিন মেদিনীপুরের এক সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রীকে পাল্টা বিদ্রূপ করে শুভেন্দু বলেন, “ওঁর এত চিন্তা কেন? আমার সঙ্গে তো মোটে ১৬ জন লোক থাকে, তাতেই ওঁর রাতের ঘুম উড়ে গেছে?”
সম্প্রতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছিলেন যে, শুভেন্দু অধিকারী ও তাঁর ঘনিষ্ঠরা নির্বাচন কমিশনকে প্রভাবিত করে ভোটার তালিকায় কারচুপি করছেন। এই অভিযোগের প্রেক্ষিতেই এদিন পাল্টা চাল চালেন নন্দীগ্রামের বিধায়ক। শুভেন্দুর দাবি, মুখ্যমন্ত্রী আসলে নিজের পায়ের তলার মাটি সরে যেতে দেখছেন বলেই এখন অবান্তর অভিযোগ তুলছেন।
শুভেন্দু এদিন আরও বলেন, “আমার সঙ্গে থাকা ১৬ জন কর্মীকে উনি ভয় পাচ্ছেন? আসলে উনি জানেন, ২০২৬-এ ওঁর বিদায় ঘণ্টা বেজে গিয়েছে। তাই এখন নির্বাচন কমিশন আর সুপ্রিম কোর্টের ভয় দেখিয়ে লাভ নেই।”
শুভেন্দুর বক্তব্যের মূল হাইলাইটস:
১৬ জনের রহস্য: শুভেন্দু সম্ভবত তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী বা আইনি লড়াইয়ে পাশে থাকা আইনজীবীদের দলটির কথা উল্লেখ করে এই ‘১৬ জন’ তকমা ব্যবহার করেছেন।
ভয় ও রাজনীতি: বিরোধী দলনেতার দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন বলেই এখন এজেন্সির ভয় দেখাচ্ছেন।
ভোটের চ্যালেঞ্জ: শুভেন্দু সাফ জানিয়ে দেন, বিজেপি কোনো অগণতান্ত্রিক পথে নাম বাদ দিচ্ছে না, বরং স্বচ্ছ ভোটার তালিকা তৈরির কাজ করছে কমিশন।
রাজনৈতিক মহলের মতে, শুভেন্দুর এই ‘১৬ জন’ মন্তব্য আসলে মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক দাপটকে ছোট করে দেখানোর একটি কৌশল। একদিকে যখন মমতা একে আইনি যুদ্ধে নিয়ে যেতে চাইছেন, তখন শুভেন্দু একে নিছক হাস্যকর বলে দাবি করে ভোটারদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর চেষ্টা করছেন। ভোটের লড়াই যে এখন সরাসরি মমতা বনাম শুভেন্দুর স্নায়ুযুদ্ধে পরিণত হয়েছে, এই বাগযুদ্ধই তার প্রমাণ।





