“আমাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠান!”-থানায় আত্মসমর্পণের পরই চরম পরিণতি, ৮ বাংলাদেশির

দেশে ফেরার আর্জি নিয়ে নিজেরাই থানায় আত্মসমর্পণ করেছিলেন ১১ জন বাংলাদেশি নাগরিক। কিন্তু আইনি পথে মিলল না রেহাই। অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের দায়ে বৃহস্পতিবার কোচবিহার আদালত তাঁদের মধ্যে ৮ জনকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫ হাজার টাকা জরিমানা (অনাদায়ে আরও ছ’মাস জেল) শুনিয়েছে।

বাকি তিনজন শিশু হওয়ায় তারা মায়েদের সঙ্গে সংশোধনাগারেই থাকবে। তবে মানবিক কারণে তাদের পড়াশোনার দায়িত্ব নেবে জেল কর্তৃপক্ষ।

😭 স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণের নাটকীয় পরিণতি

ঘটনার সূত্রপাত চলতি বছরের ৫ জুন। হঠাৎই ১১ জন বাংলাদেশি নাগরিক কোচবিহারের কোতোয়ালি থানায় হাজির হন এবং আত্মসমর্পণ করে জানান, তাঁরা অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছেন। দীর্ঘ দশ বছর ধরে তাঁরা দেশের নানা রাজ্যে শ্রমিকের কাজ করেছেন।

কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে দেশজুড়ে বাংলাদেশিদের ধরপাকড়ের খবর প্রকাশ্যে আসতেই তাঁরা আতঙ্কে সিদ্ধান্ত নেন, নিজেদের দেশে ফিরতে হবে। সেই কারণেই থানায় এসে তাঁরা পুলিশকে অনুরোধ করেন: “আমাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠিয়ে দিন।”

⛓️ দালাল চক্র ও অবৈধ শ্রমিকের জীবন

আত্মসমর্পণের সঙ্গেই অপরাধ স্বীকার করায় পুলিশ তাঁদের গ্রেফতার করে। তদন্তে জানা যায়, কোচবিহারের মেখলিগঞ্জ ও সাহেবগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে দালালদের মাধ্যমে তাঁরা ভারতে ঢুকেছিলেন এবং পরে হরিয়ানার একটি ইটভাটায় কাজ করতেন। দেশজুড়ে ‘পুশব্যাক’-এর খবর ছড়াতেই তাঁরা হরিয়ানা থেকে ট্রেনে কোচবিহার এসে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করেন।

বৃহস্পতিবার ধৃতদের কোচবিহার আদালতের ভারপ্রাপ্ত অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারক (তৃতীয় কোর্ট) রুদ্রপ্রসাদ রায়ের এজলাসে হাজির করা হয়। বিচার শেষে মজিদুল ইসলাম, মৌসম রানা, জাহিদুল ইসলাম, নয়ন ইসলাম, মহম্মদ কপিল হক, রেখা বিবি, কোহিনুর বেগম এবং জিনা বেগমকে ‘বিদেশি আইনের’ অধীনে এই কঠোর সাজা দেওয়া হয়েছে।

পিএম শিবেন রায় জানিয়েছেন, অবৈধ অনুপ্রবেশের অপরাধে আইনানুগ সাজা দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় আবারও জেলাজুড়ে সীমান্ত সুরক্ষা, সক্রিয় দালালচক্র এবং দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে কর্মরত বিদেশিদের খুঁজে বের করার প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy