পশ্চিম এশিয়ার রণক্ষেত্র থেকে ভেসে আসা ধোঁয়া এখন বিশ্ব অর্থনীতির আকাশে কালো মেঘ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেই-এর মৃত্যু এবং আমেরিকার সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার খবরে সোমবার বিশ্ববাজারে তেলের দাম কার্যত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছে। অর্থনীতিবিদদের কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ। তাঁদের সাফ কথা, “যেভাবে তেলের দাম বাড়ছে, তাতে আমজনতার কাছে মুদ্রাস্ফীতির হাত থেকে বাঁচার কোনো সহজ উপায় অবশিষ্ট নেই।”
সোমবার বাজার খুলতেই দেখা যায়, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম একলাফে প্রায় ৯% বেড়ে ৭৯-৮০ ডলার প্রতি ব্যারেলে পৌঁছেছে। গত শুক্রবার যা ছিল ৭২ ডলারের আশেপাশে। একইভাবে মার্কিন তেল WTI ক্রুড-এর দামও ৮% বেড়ে ৭৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে। গোল্ডম্যান স্যাকস এবং বার্কলেসের মতো সংস্থাগুলি সতর্ক করেছে যে, যদি পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) দীর্ঘ সময়ের জন্য বন্ধ থাকে, তবে তেলের দাম খুব দ্রুত ১০০ থেকে ১৩০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।
ভারতের মতো আমদানিনির্ভর দেশের জন্য এই পরিস্থিতি অত্যন্ত ‘ভয়ঙ্কর’। তেলের দাম বাড়লে পরিবহন খরচ বাড়বে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে চাল-ডাল থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রতিটি জিনিসের দামে। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, যুদ্ধের এই আঁচ যদি দ্রুত না নেভে, তবে বিশ্ব অর্থনীতি ২০২৬-এ এক দীর্ঘমেয়াদী মন্দার কবলে পড়বে।