‘আমাদের পক্ষে যে কথা বলবে, আমরা তার পাশে থাকব!’ টোটো রেজিস্ট্রেশন ফি নিয়ে সিপিএমের মিছিলে তৃণমূল কর্মীদের ঘোষণা

পেটের লড়াইয়ের প্রশ্নে রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে এক মঞ্চে চলে এল রাজ্যের দুই প্রধান রাজনৈতিক শিবিরের শ্রমিক সংগঠন। রাজ্য সরকারের নতুন টোটো রেজিস্ট্রেশন নীতির বিরুদ্ধে বামেদের শ্রমিক সংগঠন সিটু (CITU)-র মিছিলে সামিল হলেন শাসক দল তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠন আইএনটিটিইউসি (INTTUC)-র নেতা-কর্মীরা। এই নজিরবিহীন ঘটনায় জলপাইগুড়ির রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

বিডিও অফিস ঘেরাও, তীব্র বিক্ষোভ

রাজ্য সরকারের নতুন টোটো রেজিস্ট্রেশন নীতি নিয়ে ফুঁসে উঠেছেন টোটো চালকরা। শুক্রবার দুপুরে জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জ বিডিও অফিস ঘেরাও করে তীব্র বিক্ষোভ শুরু করেন ই-রিকশা চালক ইউনিয়নের (সিআইটিইউ) কর্মীরা। প্রথমে বিডিও অফিসের সামনে স্লোগান চলে। এরপর অফিসের ভেতরে ঢোকার অনুমতি না মেলায় বিক্ষোভ আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি সামলাতে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পরে টোটো চালকরা পথ অবরোধ করে রাস্তায় বসে পড়েন।

তৃণমূলের সাফাই: ‘আমরা এই নির্দেশিকা মানছি না’

বিক্ষোভ মিছিলে তৃণমূলের সংগঠনের সদস্যদের উপস্থিতি অনেকেই অবাক করে। এ বিষয়ে INTTUC-র নেতা-কর্মীদের সাফ কথা:

“আমরা এই নির্দেশিকা মানছি না। আমাদের পক্ষে যে কথা বলবে আমরা তাদের পাশে থাকব।”

পেটের তাগিদে এবং টোটো চালকদের স্বার্থে তাঁরা এই বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন বলে দাবি করেন তৃণমূলের সদস্যরা। বিডিও অফিস চত্বরে টানা স্লোগানে প্রশাসনিক কাজ থমকে যায়। শেষমেশ ইউনিয়নের প্রতিনিধি দল জয়েন্ট বিডিও-র কাছে মোট ছয় দফা দাবি নিয়ে ডেপুটেশন জমা দেয়।

টোটো চালকদের ৬ দফা দাবি

টোটো চালকদের মূল দাবি ছিল—নতুন রেজিস্ট্রেশন ফি বাতিল করা এবং নীতিতে পরিবর্তন আনা। তাঁদের ছয় দফা দাবির মধ্যে উল্লেখযোগ্য:

১. ই-রিক্সা (টোটো) চালকদের সরকারি স্বীকৃতি ও সামাজিক মর্যাদা প্রদান। ২. টোটো ও ই-রিক্সার মধ্যে কোনো ভেদাভেদ না রাখা। ৩. TTEN পোর্টালের মাধ্যমে এককালীন সর্বোচ্চ ৩০০ টাকায় সব গাড়ির রেজিস্ট্রেশন করা। ৪. শোরুম থেকে বাহন পোর্টালের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন বাতিল করা। ৫. রেজিস্ট্রেশনের সময়সীমা কমপক্ষে ৫ মাস বৃদ্ধি করা। ৬. নতুন টোটো কেনার জন্য ভর্তুকিযুক্ত সহজ সরকারি ঋণের ব্যবস্থা করা।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy