২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের উত্তাপের মধ্যেই এবার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মালদহে একটি নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য রাখার সময় তিনি দাবি করেন, তাঁকে সশরীরে শেষ করে দেওয়ার জন্য গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। এই মন্তব্যের নেপথ্যে উঠে এসেছে একটি রহস্যময় ‘ড্রোন’ (Drone)-এর প্রসঙ্গ।
ঠিক কী ঘটেছিল? সোমবার মালদহের জনসভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন বক্তব্য রাখছিলেন, ঠিক সেই সময় সভাস্থলের ওপর একটি ড্রোন উড়তে দেখা যায়। এই ঘটনা লক্ষ্য করেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি সরাসরি অভিযোগ করেন, “আমার ওপর নজরদারি চালানো হচ্ছে। আমাকে মেরে ফেলার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এই ড্রোন কোথা থেকে এল? কার অনুমতিতে আমার মাথার ওপর উড়ছে?”
কেন্দ্র ও বিরোধীদের নিশানা: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ঘটনার জন্য সরাসরি কেন্দ্রীয় এজেন্সি এবং বিজেপি সরকারকে কাঠগড়ায় তুলেছেন। তাঁর দাবি, রাজনৈতিকভাবে তাঁকে মোকাবিলা করতে না পেরে এখন ‘শারীরিক টার্গেট’ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “আমি সাধারণ মানুষের পাহারাদার, তাই আমাকে সরিয়ে দেওয়ার চক্রান্ত নতুন কিছু নয়। কিন্তু এভাবে ড্রোন উড়িয়ে ভয় দেখিয়ে আমাকে থামানো যাবে না।”
নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন: মুখ্যমন্ত্রীর মতো একজন ‘জেড প্লাস’ (Z+) ক্যাটাগরির নিরাপত্তা প্রাপ্ত ব্যক্তির সভায় কীভাবে কোনো আগাম অনুমতি ছাড়া ড্রোন উড়ল, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে। রাজ্য পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা ইতিমধ্য়েই এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছেন। ড্রোনের মালিক কে এবং সেটি কী উদ্দেশ্যে ওড়ানো হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
রাজনৈতিক মহলে শোরগোল: তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এটি একটি সুপরিকল্পিত হামলা বা নজরদারির চেষ্টা হতে পারে। অন্যদিকে, বিজেপি এই অভিযোগকে ‘ভোটের আগে সহানুভূতি পাওয়ার নাটক’ বলে কটাক্ষ করেছে।
ভোটের মুখে ‘ড্রোন-বিস্ফোরণ’ আর মমতার এই বিস্ফোরক দাবি বঙ্গ রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনার পারদ চড়িয়ে দিল। মালদহের এই ঘটনার রেশ এখন রাজ্যজুড়ে আছড়ে পড়ছে।





