বাংলার রাজনীতিতে ফের একবার বোমা ফাটালেন ভরতপুরের দাপুটে বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। তবে এবার কোনো রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ নয়, সরাসরি রাজ্য পুলিশকেই কাঠগড়ায় তুললেন তিনি। তাঁর দাবি, তাঁকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দিতে খোদ পুলিশই বিহার থেকে ‘সুপারি কিলার’ ভাড়া করার ছক কষছে! এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগে শোরগোল পড়ে গিয়েছে প্রশাসনিক মহলে।
বিস্ফোরক দাবি বিধায়কের: হুমায়ুন কবীর সংবাদমাধ্যমের সামনে দাবি করেছেন যে, পুলিশের এক উচ্চপদস্থ কর্তার মদতে তাঁকে খুনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তাঁর বয়ান অনুযায়ী:
“পুলিশ এখন রাজনীতি করছে। আমাকে দমানো যাচ্ছে না দেখে বিহার থেকে পেশাদার খুনি আনিয়ে আমাকে মারার চক্রান্ত হচ্ছে। আমি সব খবর পেয়েছি।”
কেন পুলিশের নিশানায় হুমায়ুন? বেশ কিছুদিন ধরেই নিজের দলের (টিএমসি) একাংশ এবং প্রশাসনের বিরুদ্ধে সুর চড়াচ্ছিলেন হুমায়ুন। কখনও পুলিশ আধিকারিকদের বদলি নিয়ে সরব হয়েছেন, কখনও বা দলের অন্দরের কোন্দল নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই অবাধ্য আচরণের কারণেই কি এবার প্রশাসন বনাম বিধায়ক সংঘাত চরমে উঠল?
পুলিশের প্রতিক্রিয়া: বিধায়কের এই মারাত্মক অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বয়ান পাওয়া যায়নি। তবে জেলা পুলিশের অন্দরে এই নিয়ে তীব্র গুঞ্জন শুরু হয়েছে। কোনো জনপ্রতিনিধি যখন খোদ রক্ষকদের বিরুদ্ধেই ভক্ষক হওয়ার অভিযোগ তোলেন, তখন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্নচিহ্ন দেখা দেয়।
পরবর্তী পদক্ষেপ: এই ঘটনার পর বিধায়ক কি কোনো উচ্চপর্যায়ের তদন্ত বা নিরাপত্তা বৃদ্ধির দাবি করবেন? নাকি বিষয়টি বিধানসভা পর্যন্ত গড়াবে? সেই দিকেই নজর রাখছে রাজনৈতিক মহল।