রায়বরেলি: কংগ্রেস সাংসদ এবং লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী শুক্রবার তাঁর নিজের কেন্দ্র রায়বরেলিতে গণপিটুনিতে নিহত দলিত যুবক হরিওম বাল্মীকির পরিবারের সঙ্গে দেখা করলেন। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলার পর কংগ্রেস নেতা চাঞ্চল্যকর দাবি করে বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে ভিকটিম পরিবারকে ভয় দেখানো হয়েছে, যাতে তারা তাঁর সঙ্গে দেখা না করে।
ঘটনাটি ঘটেছিল গত ২ অক্টোবর, রাত আনুমানিক ১টা নাগাদ। ৪০ বছর বয়সী হরিওম বাল্মীকিকে চোর সন্দেহে পিটিয়ে মারা হয়। এলাকায় গুজব ছিল যে, একটি দল ড্রোন ব্যবহার করে বাড়িতে ডাকাতির জন্য চিহ্নিত করছে। সেই গুজব ও নাইট পেট্রোলিংয়ের মাঝেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
“সরকারই অপরাধীদের রক্ষা করছে”
পরিবারের সঙ্গে দেখা করার পর সংবাদমাধ্যমকে রাহুল গান্ধী বলেন, “আজ সকালে সরকার পরিবারকে ভয় দেখিয়েছে, যাতে তারা আমার সঙ্গে দেখা না করে। ভিকটিম পরিবার আমার সঙ্গে দেখা করল কি করল না সেটা বড় কথা নয়, বড় কথা হলো এরা অপরাধী নন। এঁরা কোনো ভুল করেননি।”
তিনি আরও বলেন, “আমি মৃত ব্যক্তির পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছি এবং তাঁদের কথা শুনেছি। কংগ্রেস পার্টি এবং আমি পরিবারকে সব ধরনের সম্ভাব্য সাহায্য করার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করব… দেশের যেখানেই দলিতদের উপর অত্যাচার হবে, কংগ্রেস সেখানে থাকবে এবং আমরা সব সম্ভাব্য সাহায্য প্রদান করব ও ন্যায়বিচারের জন্য লড়াই করব।”
পরিবারকে ‘গৃহবন্দী’ রাখার অভিযোগ
কংগ্রেস নেতা সরাসরি অভিযোগ করেন যে, নিহত পরিবারকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং তাঁদের বাড়ি থেকে বের হতে দেওয়া হচ্ছে না। রাহুল গান্ধী বলেন, “কয়েক দিন আগে একজন দলিত অফিসার আত্মহত্যা করেছিলেন। আমি সেখানেও গিয়েছিলাম, আর আজ এখানে এসেছি। এই পরিবার কোনো অপরাধ করেনি। এঁদের বিরুদ্ধে অপরাধ করা হয়েছে, আর এখন মনে হচ্ছে যেন এঁরাই অপরাধী। এঁদের ঘর থেকে বের হতে দেওয়া হচ্ছে না।”
উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে বিচারের দাবি
রাহুল গান্ধী উত্তরপ্রদেশ সরকারের কাছে অপরাধীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান এবং বলেন, “অভিযুক্তদের রক্ষা করা উচিত নয়।”
রায়বরেলির সাংসদ বলেন, “এঁদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এঁরা শুধু ন্যায়বিচার চাইছেন। আমাদের ছেলেকে মেরে ফেলা হয়েছে। খুনটা ভিডিওতে রেকর্ড করা আছে। আমরা ন্যায়বিচার চাইছি। পরিবারের একটি মেয়ের অস্ত্রোপচার প্রয়োজন, কিন্তু সরকার তাঁদের তালাবন্ধ করে রাখায় তিনি সেটা করাতে পারছেন না।”
তিনি আরও বলেন, “সারা দেশে দলিতদের উপর অত্যাচার, খুন ও ধর্ষণ হচ্ছে। আমি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানাতে চাই যে, তাঁদের যেন বিচার দেওয়া হয়। তাঁদের সম্মান করা উচিত। অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক এবং তাঁদের যেন রক্ষা করা না হয়।”
আপনার মতে, গণপিটুনিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে উত্তরপ্রদেশ সরকারের আরও কড়া পদক্ষেপ নেওয়া উচিত? নীচে আপনার মতামত জানান।