প্রতীক উর রহমানকে নিয়ে যখন রাজ্য রাজনীতিতে দলবদলের জল্পনা তুঙ্গে, ঠিক তখনই আর এক তরুণ তুর্কি সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Sayan Banerjee) এক চাঞ্চল্যকর দাবি ঘিরে তোলপাড় শুরু হয়েছে। সিপিএমের এই লড়াকু আইনজীবী-নেতা এবার সরাসরি দাবি করলেন যে, তাঁকেও ‘শিবির’ বদলের জন্য ফোন করা হয়েছিল। কিন্তু তাঁর উত্তর কী ছিল? আর কারাই বা তাঁকে ফোন করেছিল? তা নিয়ে এখন চরম উত্তেজনা বঙ্গ রাজনীতিতে।
সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায় সংবাদমাধ্যমের সামনে বিস্ফোরক মেজাজে জানান, প্রতীক উরকে নিয়ে যখন চর্চা চলছে, সেই সময় তাঁর কাছেও একটি বিশেষ ফোন এসেছিল। সায়নের দাবি, ফোনের ওপার থেকে তাঁকে অন্য শিবিরে যোগ দেওয়ার প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত দেওয়া হয়। তবে সায়ন স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তিনি আদর্শের লড়াইয়ে বিশ্বাসী। তিনি বলেন, “আমাকে ফোন করেছিল। কিন্তু যারা ভেবেছে আমাকে কেনা যাবে বা ভয় দেখানো যাবে, তারা ভুল করছে। আমার আদর্শ বিক্রি হওয়ার নয়।”
রাজনৈতিক মহলের ধারণা, প্রতীক উর রহমানের পর সায়নকেও একই পথে হাঁটাতে চেয়েছিল ‘অন্য কোনো শক্তিশালী শিবির’। যদিও সায়ন সরাসরি কোনো দলের নাম নেননি, তবে তাঁর নিশানায় যে শাসক দল তৃণমূলই ছিল, তা রাজনৈতিক সমীকরণেই স্পষ্ট। সায়নের এই মন্তব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে গিয়েছে। সিপিএম কর্মী-সমর্থকরা এই লড়াকু মানসিকতাকে কুর্নিশ জানালেও, তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই অভিযোগকে পুরোপুরি আমল দেওয়া হয়নি।
সিপিএমের অন্দরে যখন প্রতীককে নিয়ে কিছুটা অস্বস্তি তৈরি হয়েছে, ঠিক সেই সময় সায়নের এই অনড় অবস্থান নিচুতলার কর্মীদের নতুন করে অক্সিজেন জোগাচ্ছে। সায়ন স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, তিনি কাস্তে-হাতুড়ি ছেড়ে কোথাও যাচ্ছেন না। তবে ভোটের আগে এই ‘ফোন কল’ বিতর্ক যে সিপিএম ও তৃণমূলের স্নায়ুযুদ্ধকে আরও কয়েক ধাপ বাড়িয়ে দিল, তা বলাই বাহুল্য।