আসন্ন নির্বাচনের আগে প্রচারের পারদ যত চড়ছে, ততই শাণিত হচ্ছে আক্রমণ আর পালটা আক্রমণ। তবে এরই মাঝে এক অন্য সুর শোনা গেল তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গলায়। বিরোধীদের চড়া সুরের মোকাবিলায় এবার ‘আবেগকে’ হাতিয়ার করলেন তিনি। সাফ জানিয়ে দিলেন, রাজনীতির ঊর্ধ্বে তাঁর কাছে বড় হলো ‘মানব ধর্ম’।
প্রতারণা ইস্যুতে কড়া জবাব: বিরোধী শিবিরের পক্ষ থেকে যখন বারেবারে শাসকদলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তোলা হচ্ছে, ঠিক তখনই মঞ্চ থেকে কড়া মেজাজে মমতা বলেন, “আমরা প্রতারণা করি না। মানুষের কাজ করাই আমাদের লক্ষ্য।” এদিন তাঁর গলায় স্পষ্ট ছিল আত্মবিশ্বাসের সুর। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই বার্তার মাধ্যমে তিনি দলের স্বচ্ছ ভাবমূর্তি তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন।
তৃণমূলের মূল দর্শন: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন তাঁর বক্তৃতায় বারেবারে সৌজন্য এবং মানবিকতার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “তৃণমূল কংগ্রেস কোনো বিভাজনের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। আমাদের ধর্ম একটাই, আর তা হলো মানুষের সেবা করা। তৃণমূল শুধু মানব ধর্মে বিশ্বাসী।” বিভাজনের রাজনীতির কারবারিদের বিরুদ্ধে তাঁর এই মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
আবেগঘন আবেদন: বক্তব্যের শেষলগ্নে জনতাকে উদ্দেশ্য করে দিদি বলেন, তিনি মানুষের জন্য কাজ করতে গিয়ে বারবার বাধা পেয়েছেন, কিন্তু দমে যাননি। মানুষের আশীর্বাদই তাঁর শেষ কথা। নির্বাচনের এই রণক্ষেত্রে মমতার এই ‘আবেগঘন কার্ড’ সাধারণ ভোটাদের মনে কতটা রেখাপাত করে, এখন সেটাই দেখার।





