“আমরা কারও কাছে জবাবদিহি করব না!” পাকিস্তানে ঢুকে নিকেশ জঙ্গি, কড়া বার্তা জয়শঙ্করের

সন্ত্রাসবাদের মোকাবিলায় ভারত এখন আরও আক্রমণাত্মক। প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানের নাম না করে কড়া ভাষায় বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর জানিয়ে দিলেন, নিজেদের রক্ষা করার জন্য ভারত কী পদক্ষেপ নেবে, তা অন্য কেউ ঠিক করে দেওয়ার অধিকার রাখে না। আইআইটি মাদ্রাজের এক অনুষ্ঠানে পড়ুয়াদের মুখোমুখি হয়ে জয়শঙ্কর স্পষ্ট করেন, আত্মরক্ষার স্বার্থে ভারত যা করবে, তার জন্য বিশ্বের কারও কাছে জবাবদিহি করতে তারা বাধ্য নয়।

‘খারাপ প্রতিবেশী’ ও পহেলগাম ট্র্যাজেডি

২০২৫ সালের এপ্রিলে পহেলগামে লস্করের ছায়া সংগঠন ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ (TRF) পর্যটকদের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালায়। সেই ঘটনার ক্ষত আজও তাজা। বিদেশমন্ত্রী পাকিস্তানকে ‘খারাপ পড়শি’ হিসেবে চিহ্নিত করে বলেন, “কারও প্রতিবেশী খারাপ হতেই পারে, দুর্ভাগ্যবশত আমাদেরও তা আছে। যদি কোনো দেশ ইচ্ছাকৃতভাবে লাগাতার সন্ত্রাসবাদকে মদত দেয়, তবে আমাদের অধিকার আছে যোগ্য জবাব দেওয়ার।”

‘অপারেশন সিঁদুর’ এবং আমেরিকার দাবি খণ্ডন

পহেলগাম হামলার বদলা নিতে ভারত শুরু করেছিল ‘অপারেশন সিঁদুর’। এই অভিযানে পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরে থাকা লস্কর-ই-তৈবা এবং জৈশ-ই-মহম্মদের একাধিক জঙ্গি ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিয়েছিল ভারতীয় বাহিনী। যদিও তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে তিনি দুই দেশের মধ্যে সংঘর্ষ বিরতি করিয়েছেন, ভারত বারবার সেই দাবি নাকচ করেছে। জয়শঙ্করের এ দিনের মন্তব্যে ঘুরিয়ে আমেরিকাকেও কড়া বার্তা দেওয়া হলো বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

জলচুক্তি নিয়ে চরম হুঁশিয়ারি

অনুষ্ঠানে ‘সিন্ধু জলচুক্তি’ (Indus Waters Treaty) নিয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে বিদেশমন্ত্রী বলেন, “দশকের পর দশক ধরে সন্ত্রাসবাদ চলতে থাকলে কোনো প্রতিবেশীর সঙ্গেই সুসম্পর্ক থাকা সম্ভব নয়। আর সুসম্পর্ক না থাকলে সেই দেশ জলচুক্তির সুবিধাও ভোগ করতে পারবে না।” উল্লেখ্য, পহেলগাম হামলার পর থেকেই ভারত এই চুক্তি পুনর্বিবেচনা বা ভেঙে ফেলার পথে হাঁটার হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে।

নিজেদের নাগরিকদের রক্ষা করাই অগ্রাধিকার

বিদেশের মাটিতে গিয়ে জঙ্গি নিকেশ বা সার্জিক্যাল স্ট্রাইক নিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে যে আলোচনা চলছে, তার জবাবে জয়শঙ্কর সাফ জানান, “আমাদের কী করা উচিত আর কী করা উচিত নয়, তা বাইরে থেকে কেউ বলে দিতে পারে না। নিজের দেশের মানুষদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা যা প্রয়োজন মনে করব, ঠিক সেটাই করব।”

বিদেশমন্ত্রীর এই মন্তব্যে এটা পরিষ্কার যে, সন্ত্রাসবাদের প্রশ্নে ভারত এখন ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতেই অবিচল।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy