আবেদন রিজেক্ট হয়েছে? অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পেতে এবার বাড়িতেই আসবে প্রশাসন!

বাংলার প্রায় ১ কোটি ১০ লক্ষ মহিলার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ইতিমধ্যে ৩,০০০ টাকা করে পৌঁছে দিয়ে হইচই ফেলে দিয়েছে রাজ্য সরকারের ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’। তবে এই সাফল্য সত্ত্বেও, অনেক আবেদনকারীর কপালে চিন্তার ভাঁজ। অনলাইনে স্ট্যাটাস চেক করতে গিয়ে অনেকের ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে “Application Rejected” বা “Under Enquiry”। স্বাভাবিকভাবেই, এই মহিলারা চিন্তিত—তাঁরা আদৌ প্রকল্পের সুবিধা পাবেন কি না। তবে এই পরিস্থিতিতে সকল দুশ্চিন্তা দূর করে বড় আশ্বাস দিলেন রাজ্যের নারী ও শিশুকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মালতি রাভা রায়।
রবিবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে মন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, আবেদন বাতিল হয়েছে মানেই যে ওই আবেদনকারী প্রকল্পের জন্য অযোগ্য, তা কিন্তু নয়। অনেক ক্ষেত্রেই কারিগরি ত্রুটি বা নথির অসংগতির কারণে আবেদন রিজেক্ট হতে পারে। সেই সমস্ত রিজেক্ট হওয়া আবেদনগুলি পুনরায় খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী জানিয়েছেন, সরকারি আধিকারিকরা সরাসরি আবেদনকারীদের বাড়িতে গিয়ে তথ্য যাচাই করবেন। তথ্য ও নথিপত্র পুনরায় পরীক্ষা করা হবে। যদি যাচাইয়ের পর প্রমাণিত হয় যে আবেদনকারী প্রকৃতপক্ষেই যোগ্য, তবে তাঁকে সরকারি সুবিধা থেকে কোনোভাবেই বঞ্চিত করা হবে না। মন্ত্রীর এই ঘোষণায় লাখ লাখ আবেদনকারীর মনে নতুন করে আশার আলো জেগেছে।
এদিকে, পুরো প্রক্রিয়াটি দ্রুত এবং স্বচ্ছ করার লক্ষ্যে নবান্ন ইতিমধ্যে যুদ্ধকালীন তৎপরতা শুরু করেছে। গত শনিবার রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ কুমার আগরওয়ালের নেতৃত্বে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠকে প্রশাসনকে পরিষ্কার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, আগামী ১০ জুলাইয়ের মধ্যে সমস্ত আবেদন যাচাইয়ের কাজ শেষ করতে হবে।
শুধু বাতিল হওয়া আবেদনই নয়, যেসব আবেদন এখনো “Under Enquiry” মোডে রয়েছে, সেগুলোর নিষ্পত্তির জন্যও ১০ জুলাই পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, যেসব আবেদন অফলাইনে জমা পড়েছিল, সেগুলিকে ডিজিটাল পোর্টালে আপলোড বা ডিজিটাইজ করার কাজও একই সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। এই ডিজিটালাইজেশনের ফলে ভবিষ্যতে টাকা স্থানান্তরের প্রক্রিয়া আরও সহজ ও দ্রুত হবে।
প্রশাসনিক কর্তাদের পক্ষ থেকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাদের স্ট্যাটাস এখনো পরিবর্তন হয়নি, তারা যেন আতঙ্কিত না হয়ে ধৈর্য ধরেন। বাড়ি বাড়ি তথ্য যাচাইয়ের কাজ চলবে এবং সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত তালিকা তৈরি হবে। আবেদন বাতিল দেখালেও, পুনরায় ভেরিফিকেশনের পর সেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তিত হওয়ার পূর্ণ সম্ভাবনা রয়েছে।
তথ্য যাচাইয়ের জন্য আধিকারিকরা যখন বাড়িতে আসবেন, তখন আবেদনকারীরা যেন তাঁদের প্রয়োজনীয় নথিপত্র যেমন—ভোটার কার্ড, ব্যাঙ্ক পাসবই, মোবাইল নম্বর এবং অন্যান্য জরুরি কাগজপত্র প্রস্তুত রাখেন। সঠিক তথ্য ও স্বচ্ছ নথি প্রদান করলে যাচাই প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হবে এবং যোগ্য আবেদনকারীদের দ্রুত টাকা পাওয়ার পথ প্রশস্ত হবে। সরকার নিশ্চিত করতে চায় যে, রাজ্যের প্রতিটি প্রকৃত দুস্থ ও নিম্নবিত্ত মহিলা যেন এই আর্থিক সহায়তার সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হন। অন্নপূর্ণা যোজনার এই দ্বিতীয় দফার যাচাই প্রক্রিয়া সাধারণ মানুষের মধ্যে এক নতুন আস্থার সৃষ্টি করেছে।