আমেরিকার ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার আরও একবার কমিয়ে দিল। ২৫ বেসিস পয়েন্ট কমানোর পর আপাতত সুদের হার দাঁড়িয়েছে ৩.৭৫ শতাংশ থেকে ৪ শতাংশের মধ্যে। যদিও ভারতের বাজারে এই রেট কাটের তেমন কোনও তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব পড়েনি। তবে, ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েল একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা জারি করে স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন যে ডিসেম্বরে সুদের হার আরও একবার কমানো হতে পারে।
মার্কিন বন্ডের ইল্ড (Yield) কমলে আমেরিকান বন্ডে বিনিয়োগের আবেদন কমে যায়। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতিতে এফআইআই (FII)-এর মতো বিদেশি বিনিয়োগ ভারতের মতো উদীয়মান বাজারগুলিতে বাড়তে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের জন্য ইতিবাচক। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন যে, কেবল ২৫ বেসিস পয়েন্ট কমানোর কারণে এখনই বিরাট প্রভাব পড়ার আশা করা উচিত নয়।
আমেরিকায় ঋণের সুদ কমলে ভারতের মতো বাজারে লিক্যুইডিটি বা নগদের প্রবাহ বাড়ার সম্ভাবনা থাকে। কারণ, সুদ কমলে ঋণের খরচ কমে এবং আমেরিকার বন্ড বা সরকারি সিকিউরিটিজের রিটার্নও কমে যায়। ফলস্বরূপ, বিনিয়োগকারীরা আমেরিকা থেকে মুখ ফিরিয়ে ভারতের মতো বৃহত্তর এবং বেশি বৈচিত্র্যপূর্ণ বাজারে আসতে পারে, যা বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতি।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন যে, ফেডের সুদের হার কমানোর সঙ্গে সঙ্গেই যে ভারতীয় শেয়ার বাজারে তার সরাসরি প্রভাব দেখা যাবে, এমনটা সবসময় হয় না। মূলত, সে দেশের বাজারে নগদের প্রবাহ বেড়ে যাওয়া সেই নগদই ঘুর পথে ভারতের বাজারে আসে।
ফেডের এই সতর্কতার কারণে এশিয়ান মার্কেটগুলির মতো ভারতের বাজারেও কিছুটা নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে। রেট কাটের পর নিউইয়র্কের স্টক এক্সচেঞ্জ ৭৪ পয়েন্ট এবং ন্যাসড্যাক ৩৭৭ পয়েন্টের বেশি পড়েছে।
এসবিআই সিকিউরিটিজের সুদীপ শাহ মনে করেন, টেকনিক্যালি এতে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। লিক্যুইডিটি এখন ভারতের বাজারের জন্য সহায়ক হলেও, বাজারের চোখ থাকবে মূল (ফাউন্ডামেন্টাল) ডেটার দিকে। ফলে, ফেডের ডিসেম্বরের নীতি নির্ধারণের আগে বাজারে আরও অস্থিরতা বা ভোল্যাটিলিটি দেখা যেতে পারে।





