আফগান-পাক সীমান্তে ফের আছড়ে পড়ল ধ্বংসাত্মক হামলা। গোয়েন্দা সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পাকিস্তানের বিমান বাহিনী আফগানিস্তানের সাতটি সুনির্দিষ্ট জঙ্গিঘাঁটি লক্ষ্য করে এই বিমান হামলা চালায়। তবে কাবুলের দাবি, পাকিস্তানের এই হামলায় কোনো জঙ্গি নয়, বরং ১৬ জন সাধারণ নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। এই ঘটনায় প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা এখন চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে।
ইসলামাবাদ সূত্রে জানা গেছে, নিষিদ্ধ সংগঠন তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (TTP)-এর ডেরাগুলি ধ্বংস করতেই এই ‘প্রিসিশন স্ট্রাইক’ চালানো হয়েছে। পাকিস্তানের অভিযোগ, আফগান ভূমি ব্যবহার করে জঙ্গিরা পাকিস্তানের মাটিতে রক্তক্ষয়ী হামলা চালাচ্ছে। কিন্তু তালিবান প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানানো হয়েছে যে, পাকিস্তান ইচ্ছাকৃতভাবে সাধারণ জনবসতিতে হামলা চালিয়েছে যা তাদের সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি আঘাত।
এই ঘটনার পরপরই কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছে তালিবানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। কাবুলের পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে, “পাকিস্তান যেন আমাদের ধৈর্যের পরীক্ষা না নেয়। এই জঘন্য অপরাধের যোগ্য জবাব দেওয়া হবে এবং ইসলামাবাদকে এর ফল ভোগ করতে হবে।” সীমান্তের ওপারে ইতিমধ্যেই অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করেছে আফগান সরকার। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাত খুব শীঘ্রই একটি পূর্ণাঙ্গ সীমান্ত যুদ্ধের রূপ নিতে পারে, যা দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতার জন্য বড় বিপদ।