আপন রক্তের প্রতি নৃশংসতা! ৪ বছরের শিশুকে খুন করে অনুশোচনাহীন মামা, গাজিপুরে এল ঐতিহাসিক রায়

উত্তর প্রদেশের গাজিপুর জেলায় ঘটে যাওয়া এক লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের পাঁচ বছর পর অবশেষে ন্যায়বিচার পেল নিহতের পরিবার। ২০২১ সালের অক্টোবরে গাহমার থানা এলাকার বারা গ্রামে নিজ চার বছর বয়সী ভাগ্নে দানিয়ালকে গলা কেটে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত মামা আমজাদ খানকে মৃত্যুদণ্ড দিলেন আদালত। এই নৃশংস ঘটনায় অভিযুক্তের নিজের তিন বোন ও এক ভাই আদালতে তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেন, যা ভারতের বিচার ব্যবস্থায় বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

ঘটনাটি ঘটেছিল ২০২১ সালের ২১শে অক্টোবর। জানা গেছে, অভিযুক্ত আমজাদ খান ঘটনার দিন নেশাগ্রস্ত অবস্থায় বাড়ি ফেরে। গত এক বছর ধরে তার বোন ও ভাগ্নে দানিয়াল তার বাড়িতেই থাকছিল। খেলার ছলে চার বছরের ছোট্ট শিশুকে নিজের ঘরে ডেকে নিয়ে যায় আমজাদ। বিছানায় শুইয়ে অত্যন্ত নির্মমভাবে ধারালো অস্ত্র দিয়ে সে ভাগ্নের গলা কেটে ফেলে। শিশুর আর্তনাদে পরিবারের সদস্যরা ছুটে এলে গ্রামবাসীরা আমজাদকে ধরে ফেলে এবং পুলিশের হাতে তুলে দেয়। পরদিন ২২শে অক্টোবর নিহতের চাচা আরবাজ খানের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে গাহমার থানায় মামলা রুজু করা হয়।

দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়ায় মোট নয়জন সাক্ষীর জবানবন্দি নেওয়া হয়। তবে এই মামলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও হৃদয়বিদারক দিক ছিল অভিযুক্তের আপন ভাই ও তিন বোনের সাক্ষ্য। পরিবারের সদস্যদের এই কঠিন সিদ্ধান্ত অভিযুক্তের দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পথ প্রশস্ত করে। আদালতে সহকারী সরকারি আইনজীবী অখিলেশ সিং তথ্যপ্রমাণসহ জোরালো সওয়াল করেন।

রায় ঘোষণার ঠিক আগের মুহূর্তে অতিরিক্ত দায়রা জজ শক্তি সিং অভিযুক্ত আমজাদকে জিজ্ঞাসা করেন, সে তার কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত কি না। আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে বিন্দুমাত্র বিচলিত না হয়ে আমজাদ পরিষ্কার জানিয়ে দেয় যে, তার কোনো অনুশোচনা নেই। এমনকি সে হুমকি দিয়ে বলে, যে-ই তার মুখোমুখি হবে, তাকেও সে হত্যা করবে। এমন হঠকারী ও নিষ্ঠুর জবাব শুনে বিচারক মন্তব্য করেন যে, আমজাদ মানবতার সমস্ত সীমা অতিক্রম করেছে। চার বছরের এক নিরীহ শিশুকে যেভাবে সে হত্যা করেছে, তা অত্যন্ত জঘন্য এবং ক্ষমার অযোগ্য।

বিচারক শক্তি সিং অভিযুক্তকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা শোনানোর পাশাপাশি ৫০,০০০ টাকা জরিমানাও করেন। এই রায়ের পর এলাকায় স্বস্তি ফিরেছে। স্থানীয়রা মনে করছেন, পরিবারের আপনজনদের সাক্ষ্য এবং আদালতের এই দ্রুত ও কঠোর রায় ভবিষ্যতে অপরাধীদের জন্য এক সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy