বেঙ্গালুরুতে ঘটে গেল এক হাড়হিম করা জালিয়াতির ঘটনা। যে ব্যাঙ্কের ওপর মানুষ ভরসা করে সারাজীবনের সঞ্চয় বা গয়না গচ্ছিত রাখেন, সেই ব্যাঙ্কেরই খোদ ডেপুটি ম্যানেজারের বিরুদ্ধেই উঠল গ্রাহকদের লকার লুঠ করার অভিযোগ। অনলাইন জুয়া ও বেটিং-এর নেশায় মত্ত হয়ে গ্রাহকদের প্রায় ২.৭৮ কেজি সোনার গয়না সরিয়ে অন্য জায়গায় বন্ধক রেখেছিলেন তিনি। অভিযুক্ত এই ব্যাঙ্ক আধিকারিকের নাম প্রকাশ্যে আসতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে গোটা দেশে।
তদন্তকারী সূত্রের খবর, অভিযুক্ত ডেপুটি ম্যানেজার (সহকারী ম্যানেজার পদমর্যাদার) গত জুন ২০২৫ থেকে জানুয়ারি ২০২৬-এর মধ্যে ধাপে ধাপে এই জালিয়াতি চালিয়েছেন। তিনি ব্যাঙ্কের ‘মাস্টার কি’ (Master Key) ব্যবহার করে ম্যানেজারের অনুপস্থিতিতে ১৫ জন গ্রাহকের লকার খোলেন। সেখান থেকে সোনা সরিয়ে তিনি বেসরকারি অর্থলগ্নিকারী সংস্থায় বন্ধক রেখে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। চুরি যাওয়া সোনার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৪ কোটি টাকারও বেশি।
গত ২ জানুয়ারি বিষয়টি প্রথম নজরে আসে যখন একজন গ্রাহক তাঁর বন্ধক রাখা গয়না নিতে গিয়ে দেখেন লকারটি কারচুপির শিকার হয়েছে। ব্যাঙ্কের পক্ষ থেকে তড়িঘড়ি অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু হলে ডেপুটি ম্যানেজারের কর্মকাণ্ড ফাঁস হয়ে যায়। পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে এবং তাঁর কাছ থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ১.২ কেজি সোনা উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। বাকি সোনা উদ্ধারে পুলিশি তৎপরতা জারি রয়েছে। ব্যাঙ্কের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং কর্মীদের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে এখন বড়সড় প্রশ্নের মুখে পড়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।