ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রাম খুললেই এখন দেখা যায় আধো-আধো গলায় কথা বলা শিশুদের মজার সব রিলস বা ভিডিও। মা-বাবারা ভাবেন, তাঁদের সন্তান ‘কিউট’ দেখাচ্ছে বলে সবাই ভালোবাসছে। কিন্তু এই আপাতমজাদার বিষয়টিই আপনার সন্তানের মানসিক ও সামাজিক বিকাশে বিষ ঢেলে দিচ্ছে। ৭ এপ্রিল প্রকাশিত একটি সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে এসেছে কয়েকটি ভয়ংকর তথ্য।
১. শৈশব চুরি ও মানসিক চাপ রিলস বা ভ্লগ বানানোর সময় শিশুদের বারবার একই পোজ দিতে বা কথা বলতে বাধ্য করা হয়। এতে তাদের স্বাভাবিক শৈশব ব্যাহত হয়। ক্যামেরার সামনে সবসময় ‘পারফেক্ট’ থাকার চাপ শিশুদের মধ্যে উদ্বেগ (Anxiety) এবং খিটখিটে মেজাজ তৈরি করে।
২. ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট ও প্রাইভেসি আপনি আপনার সন্তানের যে ভিডিওটি আজ আপলোড করছেন, তা ইন্টারনেটে আজীবনের জন্য থেকে যাচ্ছে। বড় হয়ে আপনার সন্তান সেই ভিডিওটি দেখে লজ্জিত হতে পারে। এছাড়া শিশুর ব্যক্তিগত মুহূর্ত জনসমক্ষে চলে আসায় তাদের নিরাপত্তা (Privacy) বিঘ্নিত হচ্ছে।
৩. সাইবার বুলিং ও ডার্ক ওয়েব ইন্টারনেট সবসময় নিরাপদ নয়। আপনার সন্তানের ভিডিও কোনো বিকৃতমনা মানুষের (Pedophiles) হাতে পড়তে পারে। এছাড়া নেতিবাচক কমেন্ট বা ট্রোলিং ছোট থেকেই শিশুর আত্মবিশ্বাস ভেঙে চুরমার করে দিতে পারে।
৪. বাস্তব থেকে বিচ্ছিন্নতা যে শিশুটি সারাদিন ক্যামেরার সামনে থাকতে অভ্যস্ত হয়ে যায়, সে রক্ত-মাংসের মানুষের সাথে মেলামেশা ভুলে যায়। লাইক আর কমেন্টের সংখ্যাই তাদের কাছে সার্থকতা হয়ে দাঁড়ায়, যা পরবর্তী জীবনে তাদের অসামাজিক করে তুলতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ: মনোবিদদের মতে, শিশুকে সোশ্যাল মিডিয়ার পণ্য বানাবেন না। তাদের স্বাভাবিকভাবে বড় হতে দিন। যদি ভিডিও বানাতেই হয়, তবে তা ব্যক্তিগত রাখুন বা পাবলিক প্ল্যাটফর্মে শেয়ার করা থেকে বিরত থাকুন। আপনার সাময়িক জনপ্রিয়তা যেন সন্তানের সারাজীবনের মানসিক যন্ত্রণার কারণ না হয়।





