আন্তর্জাতিক বাজারে উত্তাপ, তবুও কমবে দাম? পেট্রোল-ডিজেলের ভবিষ্যৎ নিয়ে এল চূড়ান্ত আপডেট

পেট্রোল এবং ডিজেলের লাগামহীন দাম নিয়ে যখন দেশের সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিনের আশায় দিন গুনছেন, ঠিক তখনই আশার আলো দেখালেন কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী। উত্তরপ্রদেশের সোনভদ্রে এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দিলেন যে, খুব শীঘ্রই দেশে জ্বালানির দাম কমতে পারে। তবে এই স্বস্তি কি সত্যিই দীর্ঘস্থায়ী হবে, নাকি আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির চাপে আবারও অগ্নিমূল্য হবে তেল—তা নিয়ে চলছে জোর জল্পনা।

দাম কেন কমবে, জানালেন মন্ত্রী:
মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরীর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বর্তমানে তেল বিপণনকারী সংস্থাগুলির (OMCs) কাছে যে অপরিশোধিত তেল বা ক্রুড অয়েল মজুত রয়েছে, তা বেশি দামে কেনা হয়েছিল। সেই পুরোনো স্টক শোধনাগারে প্রক্রিয়াকরণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত জ্বালানির খুচরো দামে তার সরাসরি প্রভাব পড়ছে না। তিনি জানান, বিশ্ববাজারে কম দামে কেনা নতুন ক্রুড অয়েলের চালান যখন ভারতীয় শোধনাগারগুলিতে পৌঁছাবে, তখনই সাধারণ মানুষ দাম কমার সুফল পাবেন। মন্ত্রীর কথায়, সরকার আবগারি শুল্ক কমিয়ে ইতিমধ্যেই প্রতি লিটারে প্রায় ১০ টাকা পর্যন্ত গ্রাহকদের স্বস্তি দিয়েছে। তাই নতুন তেলের চালান আসা মাত্রই বাজারে দাম সমন্বয় সম্ভব।

আন্তর্জাতিক অস্থিরতা ও জ্বালানি সংকট:
একদিকে যখন দাম কমার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক রাজনীতির উত্তাপ জ্বালানি বাজারের স্থিতিশীলতাকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। ইরান কর্তৃক হরমুজ প্রণালী ফের বন্ধ করে দেওয়া এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের হুমকি বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ শৃঙ্খলকে সংকটের মুখে ফেলেছে। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম প্রধান তৈল পরিবহন করিডোর। এই পথ বন্ধ হলে বিশ্বব্যাপী অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়া অনিবার্য। সেক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকারের দাম কমানোর পরিকল্পনা কার্যত মুখ থুবড়ে পড়তে পারে কি না, তা নিয়ে অর্থনীতিবিদরা চিন্তিত।

দেশে এখন জ্বালানির দাম স্থিতিশীল থাকলেও তা যথেষ্ট চড়া। দিল্লিতে পেট্রোল ১০২.১২ টাকা ও ডিজেল ৯৫.২০ টাকা, কলকাতায় পেট্রোল ১১৩.৫১ টাকা ও ডিজেল ৯৯.৮২ টাকা প্রতি লিটার। মুম্বই ও চেন্নাইয়েও দাম প্রায় একই। সরকার দাবি করছে তারা পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছে, কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তেজনা এবং ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা যে পেট্রোল-ডিজেলের দামকে ফের আকাশছোঁয়া করতে পারে, সেই আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এখন দেখার, মন্ত্রীর আশ্বাস অনুযায়ী কবে সাধারণ মানুষ স্বস্তির দাম পান, নাকি আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির চাপে জ্বালানির আগুন অব্যাহত থাকে।