রঙিন আলো, হইহুল্লোড় আর হাসির আওয়াজ মুহূর্তের মধ্যে বদলে গেল কান্নার রোলে। ফরিদাবাদের সুরজকুণ্ড মেলায় বড়সড় বিপর্যয়ের সাক্ষী থাকল দেশ। মেলায় বিশালাকার একটি রাইড বা দোলনা চলন্ত অবস্থায় ছিঁড়ে পড়ায় মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে এক পুলিশ আধিকারিকের। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ১১ জন। এই ঘটনায় আবারও কাঠগড়ায় বিনোদন পার্কের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। তবে এই প্রথম নয়, গত কয়েক বছরে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে বারবার রাইড বা রোপওয়ে বিপর্যয় সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্ক তৈরি করেছে।
সুরজকুণ্ডের আতঙ্ক: প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, ঘটনার সময় রাইডটি পূর্ণ গতিতে ঘুরছিল। হঠাৎ বিকট শব্দে দোলনাটির একটি অংশ ছিঁড়ে মাটিতে আছড়ে পড়ে। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও বাঁচানো যায়নি কর্তব্যরত ওই পুলিশ আধিকারিককে। মেলা প্রাঙ্গণে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা প্রশাসনের নজরদারি নিয়েও এখন প্রশ্ন উঠছে।
স্মৃতিতে ফিরল পুরনো ক্ষত: সুরজকুণ্ডের এই ঘটনা উস্কে দিয়েছে অতীতে ঘটে যাওয়া একাধিক কালো স্মৃতিকে।
-
দার্জিলিং রোপওয়ে বিপর্যয় (২০০৩): ২০০৩ সালে দার্জিলিংয়ের রঙ্গিত ভ্যালি রোপওয়েতে ছিঁড়ে পড়েছিল ট্রলি। সেই ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছিলেন ৪ পর্যটক।
-
আমেদাবাদ রাইড ক্র্যাশ (২০১৯): আমেদাবাদের কাঙ্কারিয়া লেক ফ্রন্ট পার্কে একটি বিশালাকার দোলনা মাঝখান থেকে ভেঙে পড়েছিল। সেই ঘটনায় ২ জনের মৃত্যু হয় এবং ২৭ জন গুরুতর আহত হন।
-
দেওঘর রোপওয়ে দুর্ঘটনা (২০২২): ঝাড়খণ্ডের দেওঘরে ত্রিকূট পাহাড়ের রোপওয়েতে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে মাঝ আকাশেই আটকে পড়েছিলেন বহু পর্যটক। কয়েকদিন ধরে চলা উদ্ধারকার্যের সময় ৩ জনের মৃত্যু হয়েছিল।
-
মোহালি ড্রপ টাওয়ার বিপর্যয় (২০২২): মোহালির একটি মেলায় ৫০ ফুট ওপর থেকে আছড়ে পড়েছিল একটি জয়রাইড। যান্ত্রিক ক্রুটির জেরে বহু মানুষ আহত হয়েছিলেন।
বিনোদন পার্কে বেড়াতে গিয়ে সাধারণ মানুষ আজ বিপদের মুখে। সুরজকুণ্ডের এই সাম্প্রতিক দুর্ঘটনা প্রমাণ করে দিল যে, কঠোর রক্ষণাবেক্ষণ এবং প্রশাসনের নজরদারি ছাড়া আনন্দ উপভোগের এই জায়গাগুলো আসলে একেকটি মরণফাঁদ।