দ্বিতীয় সন্তানের আগমনের খুশিতে মেতে ছিল পরিবারটি। মা হওয়ার আনন্দের সেই মুহূর্তগুলো ফ্রেমবন্দি করতে আয়োজন করা হয়েছিল ‘মেটারনিটি ফটোশুট’-এর। কিন্তু কে জানত, এক মুহূর্তের অসাবধানতা সেই আনন্দকে চিরস্থায়ী শোকে পরিণত করবে! ফটোশুট চলাকালীন স্টুডিওর একটি কৃত্রিম জলাশয়ে ডুবে মৃত্যু হলো ৩ বছরের এক শিশুপুত্রের। মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে বেঙ্গালুরুর উপকণ্ঠে মাডানায়াকনহাল্লি থানা এলাকার একটি জনপ্রিয় ফটো স্টুডিওতে।
খুশির মাঝে বিপর্যয় পুলিশ সূত্রে খবর, মৃত শিশুটির নাম লক্ষ্মীর (৩)। সে জেপি নগরের বাসিন্দা চরণ রাজ এবং স্বাতীর প্রথম সন্তান। স্বাতী আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা। দ্বিতীয় সন্তান আসার আগে তাঁরা বেঙ্গালুরুর ‘দ্য শায়ার স্টুডিও’ (The Shire Studio)-তে একটি ফটোশুটের আয়োজন করেছিলেন। শনিবার বিকেলে যখন মা স্বাতী ফটোশুটে ব্যস্ত ছিলেন, তখন পাশেই খেলা করছিল ছোট্ট লক্ষ্মীর। কেউ লক্ষ্য করার আগেই শিশুটি স্টুডিওর ভেতরে থাকা একটি ২-৩ ফুট গভীর কৃত্রিম জলাশয়ে পড়ে যায়।
অসাবধানতার চরম মাশুল বেশ কিছুক্ষণ ধরে ছেলেকে দেখতে না পেয়ে হুলুস্থুল পড়ে যায় স্টুডিওতে। প্রায় ১৫-২০ মিনিট খোঁজাখুঁজির পর ওই জলাশয়ের ভেতর থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। দ্রুত তাকে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। পুলিশ জানিয়েছে, শিশুটির উচ্চতা ছিল প্রায় ৩ ফুট, কিন্তু জলাশয়ের কাদায় সম্ভবত সে আটকে গিয়েছিল এবং সেখান থেকে উঠে আসার সুযোগ পায়নি।
বিদেশে বাবা, শোকে পাথর মা মর্মান্তিক এই ঘটনার সময় শিশুটির বাবা চরণ রাজ কর্মসূত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ছিলেন। এই দুঃসংবাদ পাওয়ার পরেই তিনি বেঙ্গালুরুর উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন। অন্তঃসত্ত্বা স্বাতী বর্তমানে ট্রমার মধ্যে রয়েছেন এবং কথা বলার মতো অবস্থায় নেই। মৃত শিশুর দাদু রমেশ বাবু থানায় একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা (UDR) দায়ের করেছেন।
নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন একটি সুসজ্জিত স্টুডিও চত্বরে এমন জলাশয় কেন অরক্ষিত অবস্থায় ছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তদন্তকারী আধিকারিকরা জানিয়েছেন, স্টুডিও কর্তৃপক্ষের অবহেলার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এক মুহূর্তের চোখের আড়ালে একটি সাজানো সংসার যেভাবে তছনছ হয়ে গেল, তাতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা এলাকায়।