রুপোলি পর্দার সেই কালজয়ী দৃশ্য— জেলারের ভূমিকায় আসরানি হাঁক দিচ্ছেন, ‘আধে উধার যাও, আধে ইধার যাও…’, কিন্তু পিছন ফিরে দেখলেন কেউ নেই! বিহারে বর্তমান কংগ্রেসের অবস্থাও অনেকটা তেমনই বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। দলের সিংহভাগ কর্মী-সমর্থক হয় বিজেপির দিকে, নয়তো নীতীশ কুমারের জেডিইউ-এর দিকে ঝুঁকে পড়েছেন। পতাকার তলায় দাঁড়ানোর লোক নেই, এই আবহে অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে টিকে থাকা বিহারের মাত্র ৬ জন কংগ্রেস বিধায়কের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখন টানাপোড়েন তুঙ্গে।
সম্প্রতি দিল্লিতে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং রাহুল গান্ধী বিহারের এই ৬ বিধায়কের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন। সূত্রের খবর, আবিদুর রহমান, সুরেন্দ্রপ্রসাদ কুশওয়াহা সহ বাকিদের কাছে সরাসরি জানতে চাওয়া হয়— তাঁরা কি দলবদল করছেন? যদিও ৬ বিধায়কই দল ছাড়বেন না বলে আশ্বস্ত করেছেন, তবুও তাঁদের ওপর পুরোপুরি ভরসা করতে পারছে না এআইসিসি। গত বছর বিহার বিধানসভা ভোটে ৬১টি আসনে লড়ে মাত্র ৬টি জয়— কংগ্রেসের এই শোচনীয় পারফরম্যান্স দলের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দিয়েছে। যেখানে পাঁচ বছর আগে ১৯টি আসন ছিল, সেখানে এই পতন হাইকম্যান্ডকেও দিশেহারা করে তুলেছে।
মহাগঠবন্ধনের সঙ্গীরাও ধুঁকছে। লালু-তেজস্বীর আরজেডি মাত্র ২৫টি আসনে জয়ী হয়েছে, যার ফলে বিজেপির আগ্রাসী রণকৌশলের সামনে মহাগঠবন্ধন কার্যত অসহায়। দিল্লির বৈঠকে প্রদেশ নেতৃত্ব যখন আগামীর রূপরেখা চাইলেন, তখন খাড়গে-রাহুলরা স্রেফ বিধানসভার বাজেট অধিবেশনে সরকারকে চেপে ধরার পরামর্শ দিয়েই দায় সেরেছেন। কিন্তু সংগঠন মজবুত করার কোনও দিশা দিতে পারেননি। এক হতাশ কংগ্রেস নেতার কথায়, “আমরা জানি না সামনে কোনও কর্মসূচি আছে কি না, নাকি আমাদের জন্য বিহারের অধ্যায় এখন ‘ক্লোজড চ্যাপ্টার’!” এই অনিশ্চয়তাই বিহারে কংগ্রেসের পতনকে ত্বরান্বিত করছে বলে মনে করা হচ্ছে।