আদালতের লাইভ সম্প্রচার কি আদতে ফাঁকি? বিচারপতিদের কড়া বার্তায় বিতর্ক, আসল কারণ কি?

দেশের সর্বোচ্চ আদালত থেকে শুরু করে বিভিন্ন হাইকোর্টে শুনানির লাইভ সম্প্রচার চালু হয়েছে স্বচ্ছতা বাড়াতে। কিন্তু বাস্তবে এর কার্যকারিতা কতটা? সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের এক বিচারপতি এই লাইভ স্ট্রিমিংয়ের সিদ্ধান্ত কার্যকর না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে কলকাতা হাইকোর্টে এই ব্যবস্থা চালু হলেও তা নিয়ে বিতর্ক ক্রমশ বাড়ছে।
হাইকোর্টে কেন কাজ হচ্ছে না?
দিল্লি হাইকোর্টে প্রায় আড়াই বছর আগে লাইভ স্ট্রিমিংয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও এখনও তা বাস্তবায়িত হয়নি। গত সপ্তাহে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি বিক্রম নাথ এই নিয়ে প্রশ্ন তুলে যত দ্রুত সম্ভব ব্যবস্থা চালুর আবেদন জানান।
একইভাবে, কলকাতা হাইকোর্টে ঢাকঢোল পিটিয়ে এই ব্যবস্থা চালু হলেও তা কার্যকর নয়। কারণ বহু এজলাসে এখনও লাইভ সম্প্রচারের অনুমতি নেই। আবার কিছু এজলাসে বিচারক রায় লেখার সময়ে বা অন্য কোনো কারণে ইচ্ছেমতো লাইভ স্ট্রিমিং বন্ধ করে দেন। এর ফলে মামলাকারীদের মধ্যে বিভ্রান্তি বাড়ছে।
বিচারপতিরা কেন ক্ষুব্ধ?
হাইকোর্টের এক বিচারপতি সম্প্রতি জানিয়েছেন, “বাধ্য হয়ে লাইভ স্ট্রিমিং অনেক সময়েই বন্ধ করতে হয়। না হলে ভিডিয়োর কিছু অংশ কেটে তা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দিয়ে এমন সব ব্যাখ্যা করা হয়, যা বিচার সম্পর্কে ভুল ধারণা ছডি়য়ে দিতে পারে।”
অনেক বিচারপতির মতে, শুনানিতে অনেক অপ্রাসঙ্গিক প্রশ্ন বা কথা উঠে আসে, যা মামলার মূল বিষয় নয়। অথচ পরে দেখা যায়, সেই সব অংশই ভাইরাল হয়ে ছড়িয়ে পড়ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। এটি আদালতের সম্মান ও বিচার প্রক্রিয়ার প্রতি ভুল ধারণা তৈরি করে।
আইনজীবীদের মধ্যে মতবিরোধ
লাইভ স্ট্রিমিং নিয়ে আইনজীবীদের মধ্যেও মতভেদ রয়েছে। একদল আইনজীবীর মতে, এতে স্বচ্ছতা বাড়ে এবং মক্কেলরা সরাসরি দেখতে পারেন তাদের মামলার কী অগ্রগতি হচ্ছে। অন্যদিকে, আরেক দলের বক্তব্য, এতে পেশার গোপনীয়তা নষ্ট হয়। তবে সবাই একটি বিষয়ে একমত—যদি লাইভ স্ট্রিমিং চালু হয়, তাহলে তা সব এজলাসেই একই রকমভাবে হওয়া উচিত। কারণ, কোথাও হবে আর কোথাও হবে না—এমন নিয়ম বিভ্রান্তি বাড়ায়।