আদালতের রায় আসতেই মোক্ষম আঘাত! ৫৩ একরের দিল্লি রেস ক্লাব এক ঝটকায় দখল করে নিলো সরকার!

নয়াদিল্লির অত্যন্ত সংবেদনশীল ও অভিজাত লুটিয়েন্স জোনে অবস্থিত ঐতিহাসিক ‘দিল্লি রেস ক্লাব’-এর ৫৩ একরের বিশাল জমির সম্পূর্ণ দখল নিল কেন্দ্রীয় সরকার। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাসভবনের অত্যন্ত কাছে অবস্থিত এই কৌশলগত ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ভারী পুলিশ বাহিনী এবং ঊর্ধ্বতন প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের ব্যাপক উপস্থিতিতে এই উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। জমিটি নিজেদের আয়ত্তে নেওয়ার পরপরই সেখানে বুলডোজার চালিয়ে রেস ক্লাবের প্রাঙ্গণে থাকা বহু পুরনো ও জরাজীর্ণ কাঠামো ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর কেন্দ্রীয় সরকার জমিটির রক্ষণাবেক্ষণ ও ভবিষ্যতের রূপরেখা তৈরির জন্য তা ‘সেন্ট্রাল পাবলিক ওয়ার্কস ডিপার্টমেন্ট’ (CPWD)-এর হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দিয়েছে।

আদালতের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ আসার ঠিক দু’দিন পরেই কেন্দ্রীয় সরকার এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এর আগে এস্টেট অফিসারের দেওয়া উচ্ছেদ আদেশের বিরুদ্ধে জেলা ও দায়রা আদালতের কাছে অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশের আর্জি জানিয়েছিল ‘দিল্লি রেস ক্লাব (1940) লিমিটেড’। কিন্তু বিচারক সেই আবেদন সম্পূর্ণ খারিজ করে দেন। আদালত সাফ জানিয়ে দেয় যে, ক্লাব কর্তৃপক্ষকে তাদের যথাযথ বক্তব্য পেশ করার যথেষ্ট সুযোগ দেওয়া হলেও তারা তা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছে।

এর ফলে ‘পাবলিক প্রেমিসেস অ্যাক্ট, ১৯৫০’-এর ৫ নম্বর ধারা অনুযায়ী ক্লাবের উচ্ছেদের আইনি পথ পুরোপুরি প্রশস্ত হয়। ‘ল্যান্ডস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস’ (L&DO) এবং CPWD-এর শীর্ষ আধিকারিকদের উপস্থিতিতে ‘যেমন আছে, যেখানে আছে’ (as is, where is) ভিত্তিতে এই হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক নথিপত্র এবং আইনি কাজ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বুলডোজার দিয়ে প্রাঙ্গণের কাঠামো ভাঙার কাজ শুরু হয়ে যায়।

উল্লেখ্য, এই বিশাল জমিটির মূল ইজারার মেয়াদ ১৯৯৪ সালের ডিসেম্বরেই শেষ হয়ে গিয়েছিল এবং তারপর তা আর নবীকরণ করা হয়নি। কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে সরকারি প্যানেলের আইনজীবীরা আদালতে জোরালো সওয়াল করে জানান যে, ইজারার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকেই ক্লাবটি বেআইনিভাবে সরকারি জমি দখল করে বসে আছে। যদিও ক্লাব কর্তৃপক্ষের মূল আইনি মামলাটি এখনও আদালতে বিচারাধীন রয়েছে এবং এবিষয়ে পরবর্তী শুনানি আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর ধার্য করা হয়েছে, তবুও কোনো রকম অন্তর্বর্তীকালীন সুরক্ষা বা স্থগিতাদেশ না থাকায় সরকার দ্রুততার সঙ্গে জমিটির দখল নিজেদের হাতে নিয়ে নেয়।

দিল্লির সবচেয়ে অভিজাত ও স্পর্শকাতর এলাকায় ৫৩.২৪২ একরের এই সুবিশাল ভূখণ্ডের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ সরকারের হাতে আসার পর থেকেই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র জল্পনা। ধারণা করা হচ্ছে, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জমিতে ভবিষ্যতে কোনো মেগা সরকারি প্রকল্প বা জনস্বার্থের বড় উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। বৃহস্পতিবার ক্লাবের নির্মাণ ভাঙার ছবি প্রকাশ্যে আসার পর সেই আলোচনা আরও বহুগুণ বেড়ে গেছে।