“আতঙ্ক নয়, প্রস্তুতিই শেষ কথা!” পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের আবহে মুখ্যমন্ত্রীদের কড়া বার্তা প্রধানমন্ত্রীর

পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান যুদ্ধ এবং তার জেরে বিশ্বজুড়ে তৈরি হওয়া জ্বালানি সংকটের আবহে শুক্রবার দেশের সব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে এক হাইভোল্টেজ ভার্চুয়াল বৈঠকে বসলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই বৈঠকেই প্রধানমন্ত্রী পরোক্ষভাবে কোভিডের সেই ভয়াবহ দিনগুলোর স্মৃতি উসকে দিয়ে রাজ্যগুলিকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। মোদির বার্তার মূল সুর ছিল একটাই—আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই, কিন্তু পরিস্থিতির মোকাবিলায় ‘প্রো-অ্যাক্টিভ’ বা অতি-সক্রিয় হতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোভিড মহামারীর সময় কেন্দ্র ও রাজ্য যেভাবে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেছিল, বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলাতেও সেই একই ‘টিম ইন্ডিয়া’র স্পিরিট প্রয়োজন। তিনি রাজ্যগুলিকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, যুদ্ধের ফলে জ্বালানি তেলের জোগানে টান পড়তে পারে, যা সরাসরি প্রভাব ফেলবে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দামে। তাই কোভিডের সময়ের মতোই যাতে কোনোভাবেই মজুতদারি বা কালোবাজারি না হয়, তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে কড়া নজরদারি চালাতে হবে।
বৈঠকে মোদি মনে করিয়ে দেন, সরবরাহ শৃঙ্খল বা সাপ্লাই চেইন বজায় রাখাটাই এখন সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি রাজ্য সরকারগুলিকে অপ্রয়োজনীয় খরচ কমাতে এবং বিকল্প জ্বালানির ব্যবহারে জোর দিতে বলেন। প্রধানমন্ত্রীর কথায়, “কোভিড আমাদের শিখিয়েছে কীভাবে প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হয়। আজ যখন বিশ্বের এক বড় অংশ যুদ্ধের জাঁতাকলে, তখন ভারতের ১৪০ কোটি মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমাদের সেই অভিজ্ঞতাই কাজে লাগাতে হবে।”
যদিও নির্বাচনী বিধির কারণে পশ্চিমবঙ্গসহ কয়েকটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি উপস্থিত থাকতে পারেননি, তবে তাঁদের প্রতিনিধিদের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর এই গাইডলাইন পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। মোদির এই ‘কোভিড-মডেল’ দাওয়াই এখন রাজনৈতিক মহলে চর্চার বিষয়। এটি কি শুধুই সতর্কতা নাকি আসন্ন কোনো বড় সংকটের আগাম ইঙ্গিত, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা। তবে প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাস, ভারত যেকোনো পরিস্থিতি সামলাতে সক্ষম।