“ভোটাধিকার কাড়তে দিল্লিকে কেল্লা বানিয়েছেন মোদী-শাহ!” ধ্রুব রাঠী ও দিপকে আটকের পর তোপ জয়রাম রমেশের

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে এবং বিতর্কিত ‘স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন’ (SIR) প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে জাতীয় রাজধানী দিল্লিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র তরুণেরা যখন আন্দোলনে নেমেছেন, ঠিক তখনই কেন্দ্র সরকারকে একযোগে তীব্র আক্রমণ ছানালেন কংগ্রেসের রাজ্যসভা সাংসদ জয়রাম রমেশ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কড়া সমালোচনা করে তিনি অভিযোগ তোলেন, দেশের সংবিধানের ৩২৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নাগরিকদের পাওয়া মৌলিক ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার প্রতিবাদে যখন তরুণ সমাজ শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে সামিল হতে চেয়েছিল, তখন দিল্লিকে পুরো সেনার কেল্লায় পরিণত করা হয়েছে।

সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ দেওয়া একটি দীর্ঘ ও চাঞ্চল্যকর পোস্টে জয়রাম রমেশ দাবি করেন, যন্তর মন্তরে আয়োজিত তরুণদের এই গণআন্দোলন দেখে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব অত্যন্ত আতঙ্কিত ও দিশেহারা হয়ে পড়েছে। তিনি স্পষ্ট অভিযোগ করেন, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার নিজের নিয়োগের সময় থেকেই শীর্ষ দুই নেতৃত্বের নির্দেশ অন্ধভাবে মেনে চলেছেন। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে যখন বিরোধী দলের ১৪৫ জন সাংসদকে সংসদ থেকে সাসপেন্ড বা বরখাস্ত করা হয়েছিল, সেই সময় সুযোগ বুঝে সিইসি-কে আজীবন আইনি সুরক্ষা প্রদানকারী বিশেষ আইন পাস করিয়ে নেওয়া হয়েছিল। শীর্ষ আদালতের সামনে ভুল তথ্য পেশ করার অভিযোগে এখন নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ নৈতিকভাবে আবশ্যিক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জয়রাম রমেশ দাবি তুলেছেন, দেশে তাৎক্ষণিকভাবে ‘এসআইআর’ (SIR) প্রক্রিয়া স্থগিত করতে হবে। কারণ, এই প্রক্রিয়ার ফলে দেশজুড়ে প্রায় ১৪ কোটি সাধারণ ভারতীয় নাগরিক তাঁদের গণতান্ত্রিক ভোটাধিকার হারানোর চরম ঝুঁকিতে পড়েছেন। দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থার ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে এই ভোট ছাঁটাইয়ের প্রক্রিয়া অবিলম্বে বন্ধ করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প পথ নেই। অন্যদিকে, এই আন্দোলনের তীব্রতা কমাতে সিজেপি নেতা অভিজিৎ দিপকেকে মুম্বই থেকে দিল্লি বিমানবন্দর নামার সাথে সাথেই পুলিশ আটক করে। একই সাথে জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর ধ্রুব রাঠীকেও পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।