আজ থেকে চালু হল পিঙ্ক কার্ড! কীভাবে ঘরে বসেই অনলাইনেই সেরে ফেলবেন আবেদন? জেনে নিন পদ্ধতি

মহিলাদের জন্য সরকারি বাসে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে যাতায়াতের সুবন্দোবস্ত আরও সুশৃঙ্খল করতে রাজ্যজুড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়ে গেল বহু প্রতীক্ষিত ‘পিঙ্ক কার্ড’ (Pink Card)। গত ১ জুন থেকে রাজ্যের সমস্ত মহিলারা দূরপাল্লার এবং শহরতলির সরকারি এসি ও নন-এসি বাসে নিখরচায় যাতায়াতের সুযোগ পেয়ে আসছেন। এতদিন পিঙ্ক কার্ড বা স্মার্ট কার্ড তৈরি না হওয়ার কারণে শুধুমাত্র পরিচয়পত্র যেমন ভোটার কার্ড বা অন্যান্য নথি দেখিয়েই মহিলারা এই সুবিধা উপভোগ করছিলেন। তবে এবার থেকে সরকারি বাসে বিনা ভাড়ায় যাতায়াত করার জন্য এই বিশেষ পিঙ্ক কার্ড প্রদর্শন করা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। ফলে এই নতুন নির্দেশিকা জারির পর কীভাবে কার্ড সংগ্রহ করবেন, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে কৌতূহল তুঙ্গে।

পরিবহন দফতরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাধারণ নাগরিকদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে পিঙ্ক কার্ডের জন্য অনলাইন ও অফলাইন—উভয় মাধ্যমেই আবেদন করার সুব্যবস্থা রাখা হয়েছে। যাঁরা ঘরে বসে অনলাইনে আবেদন করতে চান, তাঁদের প্রথমে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নির্দিষ্ট অফিসিয়াল পোর্টালে ভিজিট করতে হবে। সেখানে পিঙ্ক কার্ড সংক্রান্ত নিবেদিত লিঙ্কে ক্লিক করে নিজের নাম, সক্রিয় মোবাইল নম্বর এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে প্রাথমিক রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করতে হবে। এরপর একে একে সমস্ত প্রয়োজনীয় ভ্যালিড নথি স্ক্যান করে পোর্টালে আপলোড করতে হবে। আবেদন প্রক্রিয়া সফলভাবে সাবমিট করার পর স্ক্রিনে একটি ডিজিটাল রিসিট বা অ্যাকনলেজমেন্ট স্লিপ আসবে, যা পরবর্তী প্রয়োজনের জন্য যত্ন সহকারে সংরক্ষণ করতে হবে।

অনলাইন পদ্ধতির পাশাপাশি অফলাইনে আবেদন করারও সুযোগ রয়েছে। কোনো নারী যদি পঞ্চায়েত এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা হন, তবে তাঁকে সংশ্লিষ্ট ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিসারের (BDO) দফতরে যোগাযোগ করতে হবে। অন্যদিকে, পুরসভা এলাকার বাসিন্দাদের স্থানীয় পৌরসভায় গিয়ে নির্দিষ্ট ফর্ম সংগ্রহ করতে হবে এবং যাবতীয় প্রয়োজনীয় নথি সহ তা যথাযথভাবে পূরণ করে জমা দিতে হবে। প্রশাসনিক স্তরে পুঙ্খানুপুঙ্খ ভেরিফিকেশন বা যাচাইকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই আবেদনকারীর হাতে এই বিশেষ পিঙ্ক কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে।

এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার জন্য আবেদনকারীদের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি জমা দিতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে পরিচয় ও বয়সের প্রমাণপত্র হিসেবে ভোটার কার্ড (যেখানে সংশোধিত ভোটার তালিকায় নাম থাকা আবশ্যক), স্থানীয় বাসিন্দার বৈধ সার্টিফিকেট, আবেদনকারীর সাম্প্রতিক স্ট্যাম্প সাইজ ছবি এবং একটি সক্রিয় মোবাইল নম্বর। পরিবহন দফতরের এই নতুন পদক্ষেপে রাজ্যজুড়ে মহিলা যাত্রীদের যাতায়াত আরও মসৃণ ও সুনির্দিষ্ট হবে বলেই মনে করা হচ্ছে।