আজ থেকেই বন্ধ সমস্ত ব্যাঙ্কের কাজকর্ম! অ্যাকাউন্ট হোল্ডারদের কপালে বড় চিন্তার ভাঁজ!

যদি আপনি আজ বা আগামী কাল, অর্থাৎ ২ এবং ৩ নভেম্বর কোনো জরুরি ব্যাংকিং কাজের জন্য বাড়ি থেকে বের হওয়ার পরিকল্পনা করে থাকেন, তবে তা অবিলম্বে স্থগিত রাখুন। কারণ দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ব্যাংক আইডিবিআই ব্যাংকের (IDBI Bank) কর্মীরা আজ থেকেই দুই দিনের দেশব্যাপী এক বিরাট ধর্মঘট শুরু করেছেন। এই মেগা ধর্মঘটে সারা দেশজুড়ে ১০, হাজারেরও বেশি ব্যাংক কর্মকর্তা ও কর্মচারী স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করছেন। বিপুল সংখ্যক কর্মীর এই কর্মবিরতির ফলে স্বাভাবিকভাবেই দেশের সমস্ত ব্যাংক শাখা জনশূন্য হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা সরাসরি প্রভাবিত করবে সেই সমস্ত সাধারণ গ্রাহকদের, যাদের নিত্যদিনের কাজের জন্য ব্যাংক শাখায় যেতেই হয়। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আগেই গ্রাহকদের সতর্ক করে একটি বিশেষ বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল।

এই বিশাল ধর্মঘটের মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে কেন্দ্রীয় সরকারের বেসরকারীকরণ পরিকল্পনা। ব্যাংকের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের প্রধান প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন ‘ইউনাইটেড ফোরাম অফ আইডিবিআই অফিসার্স অ্যান্ড এমপ্লয়িজ’-এর ডাকেই এই আন্দোলন শুরু হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার আইডিবিআই ব্যাংকের সম্পূর্ণ পরিচালনার দায়িত্ব কানাডার ফেয়ারফ্যাক্স গ্রুপের হাতে তুলে দেওয়ার জোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই বিতর্কিত প্রস্তাবের বিরুদ্ধে কর্মচারী সংগঠনগুলো তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে সরাসরি রাস্তায় নেমেছে। ইউনিয়নগুলো কেন্দ্রীয় সরকার ও ব্যাংক ব্যবস্থাপনার কাছে অবিলম্বে এই বেসরকারীকরণ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি, ব্যাংক বিক্রির ক্ষেত্রে মূল্যায়ন নির্ধারণের যে পদ্ধতি নেওয়া হয়েছে, তার স্বচ্ছতা নিয়েও চরম প্রশ্ন তুলেছে ইউনিয়ন।

সবথেকে বড় প্রশ্ন হলো, যে ব্যাংকটি একসময়ের বিরাট লোকসান কাটিয়ে বর্তমানে ৩০,১০০ কোটি টাকারও বেশি নিট মুনাফা অর্জন করছে, সেই লাভজনক ব্যাংকটিকে কেন হঠাৎ জলের দরে বিক্রি করা হবে? ইউনিয়নের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে আরবিআই-এর সম্পদের গুণগত মান পর্যালোচনায় ব্যাংকের বিপুল পরিমাণ খেলাপি ঋণ বা এনপিএ (NPA) প্রকাশ্যে আসে। সেই সংকটময় মুহূর্তে ব্যাংকটিকে বাঁচানোর জন্য কোনো বেসরকারি বিনিয়োগকারী এগিয়ে আসেনি, বরং কেন্দ্রীয় সরকার এবং লাইফ ইন্স্যুরেন্স কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া (এলআইসি) যৌথভাবে ৪৬,০০০ কোটি টাকারও বেশি মূলধন জুগিয়েছিল। এর পাশাপাশি ব্যাংকের সাধারণ কর্মীরাও দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে গ্রাহকদের আস্থা পুনর্গঠন করেছিলেন। তাঁদের এই কঠিন পরিশ্রমের ফলেই ব্যাংকটি গত ছয় বছরে ৩০,১০০ কোটি টাকার বেশি নিট মুনাফা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৮ সালে যে ব্যাংকের গ্রস এনপিএ ছিল ৩১.৭৮%, তা কমে বর্তমানে মাত্র ২.৩০%-এ নেমে এসেছে। নেট এনপিএ দাঁড়িয়েছে মাত্র ০.১৬%-এ, যেখানে মূলধন পর্যাপ্ততার অনুপাত ২৬.৩৮%। কর্মচারীদের প্রশ্ন, এত শক্তিশালী ও লাভজনক আর্থিক অবস্থার পরেও কেন ব্যাংকটিকে বেসরকারি হাতে তুলে দেওয়া হবে?

ধর্মঘটের জেরে স্বাভাবিকভাবেই ব্যাংক শাখার দৈনন্দিন কার্যক্রমে বড় ধরনের ধাক্কা লাগার আশঙ্কা রয়েছে। চেক ক্লিয়ারিং, কেওয়াইসি (KYC) আপডেট বা অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত জটিল কাজগুলোর জন্য শাখায় গেলে সমস্যায় পড়তে পারেন গ্রাহকরা। তবে স্বস্তির খবর হলো, ডিজিটাল ব্যাংকিং পরিষেবাগুলি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক থাকবে। আইডিবিআই ব্যাংক তাদের অফিসিয়াল এক্স (পূর্বের টুইটার) হ্যান্ডেলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, ইন্টারনেট ব্যাংকিং, গো মোবাইল+ অ্যাপ, ইউপিআই, এটিএম এবং কাস্টমার সার্ভিস পয়েন্ট (সিএসপি) যথারীতি চালু থাকবে। গ্রাহকদের সুবিধার্থে ব্যাংকটি আরও ঘোষণা করেছে যে, এই দুই দিন অন্য ব্যাংকের এটিএম থেকে টাকা তুললে আইডিবিআই গ্রাহকদের কোনো অতিরিক্ত চার্জ দিতে হবে না। তবে এটিএমে ক্যাশ সংকটের আশঙ্কা এড়াতে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ গ্রাহকদের আগে থেকেই জরুরি নগদ টাকা তুলে নিতে এবং ডিজিটাল মাধ্যমগুলি সক্রিয় রাখতে বিশেষ পরামর্শ দিয়েছে।