আচমকা বুকে তীব্র ব্যথা! বিদেশ সফর থেকে ফিরেই হাসপাতালে ভর্তি বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসু

হঠাৎ অসুস্থ হয়ে বাইপাসের ধারে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসু। শুক্রবার রাতে আচমকাই বুকে তীব্র ব্যথা অনুভব করেন তিনি, সেই সঙ্গে তাঁর রক্তচাপও অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে চিকিৎসকরা তাঁর একাধিক শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন। তবে হাসপাতাল সূত্রে স্বস্তির খবর মিলিয়ে জানানো হয়েছে যে, বর্তমানে তিনি সম্পূর্ণ স্থিতিশীল রয়েছেন এবং তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতির কোনো আশঙ্কা নেই। চিকিৎসকদের কড়া পর্যবেক্ষণে রেখে তাঁর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা চলছে।

রাজনৈতিক মহল সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি একটি বিদেশ সফর সেরে কলকাতায় ফিরেছিলেন রথীন্দ্র বসু। কিন্তু বিদেশ থেকে ফেরার পর থেকেই তাঁকে কার্যত কোনো বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি। লাগাতার রাজনৈতিক কর্মসূচি এবং দাপ্তরিক কাজের চাপে তিনি শারীরিক দিক থেকে ক্লান্তি বোধ করছিলেন। বিশেষ করে, গত শুক্রবার বিধানসভায় একই সঙ্গে গান্ধী জয়ন্তী এবং লালবাহাদুর শাস্ত্রীর জন্মদিন উদযাপন সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে টানা অংশ নিয়েছিলেন তিনি। অতিরিক্ত কাজের চাপ ও বিশ্রামের অভাবেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে চিকিৎসকদের প্রাথমিক অনুমান।

উল্লেখ্য, রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর কোচবিহার দক্ষিণ কেন্দ্রের বিধায়ক রথীন্দ্র বসু বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার স্পিকার হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। পেশায় একজন অভিজ্ঞ চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট রথীন্দ্র বসু প্রথমবার বিধায়ক নির্বাচিত হয়েই স্পিকারের মতো একটি মর্যাদাপূর্ণ পদে আসীন হয়েছেন। রাজনীতির আঙিনায় তাঁর আগমন ২০১১-১২ সালের দিকে হলেও, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের (RSS) সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের ও অত্যন্ত ঘনিষ্ট সম্পর্ক রয়েছে। ১৯৭৪-৭৫ সাল থেকেই তিনি সঙ্ঘের বিভিন্ন কাজকর্মের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে ২০১১-১২ সালে বিজেপির জেলা কমিটির সদস্য এবং ২০১২-১৩ সালে রাজ্য কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন। একই সঙ্গে তিনি জলপাইগুড়ি জেলার পর্যবেক্ষক এবং ২০১৪-১৫ সালের মধ্যে শিলিগুড়ি জেলা বিজেপির সভাপতির দায়িত্বও অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে পালন করেছেন। হঠাৎ তাঁর এই অসুস্থতার খবরে রাজনৈতিক মহলে উদ্বেগ ছড়িয়েছে এবং দলের কর্মী-সমর্থকরা তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন।