বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এখন এক চূড়ান্ত সন্ধিক্ষণে। আগামী পরশুই ঢাকার মসনদে বসতে চলেছেন বিএনপি-র শীর্ষ নেতা তারেক রহমান। এই রাজকীয় শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে যখন সাজ সাজ রব, ঠিক তখনই বড় প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উপস্থিতি নিয়ে। কূটনৈতিক সূত্রে খবর, এই মুহূর্তে দেশের স্বার্থ এবং বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে প্রধানমন্ত্রী মোদী হয়তো ঢাকা সফরে নাও যেতে পারেন।
ভারতের বিদেশমন্ত্রক সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে, ‘বিদেশনীতি সবসময় দেশের স্বার্থেই পরিচালিত হয়’। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অস্থিতিশীলতা এবং সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে ভারতের যে উদ্বেগ রয়েছে, তা এখনও পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি। এই আবহে তারেক রহমানের শপথে মোদীর সশরীরে উপস্থিত থাকা ভারতের দীর্ঘমেয়াদী কৌশলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে কি না, তা নিয়ে দিল্লিতে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা চলছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরাসরি প্রধানমন্ত্রী না গিয়ে ভারতের পক্ষ থেকে কোনো উচ্চপদস্থ প্রতিনিধি বা মন্ত্রীকে পাঠানো হতে পারে।
ঢাকার পক্ষ থেকে মোদীকে রাজকীয় সংবর্ধনা দেওয়ার প্রস্তুতি রাখা হলেও, দিল্লির এই সম্ভাব্য সিদ্ধান্ত দুই দেশের আগামীর সম্পর্কে এক নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। তবে ভারতের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, প্রতিবেশীর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখলেও জাতীয় নিরাপত্তা এবং আদর্শগত অবস্থানে কোনো আপস করা হবে না। এখন দেখার বিষয়, পরশুর অনুষ্ঠানে দিল্লির প্রতিনিধি হিসেবে শেষ পর্যন্ত কে উপস্থিত থাকেন এবং তারেক রহমানের নতুন সরকারের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক কোন পথে এগোয়।