‘আগে চিঠি, পরে অনাস্থা’— স্পিকার ইস্যুতে রাহুলের পথে না হাঁটার কারণ জানালেন অভিষেক!

সংসদের স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে উত্তাল জাতীয় রাজনীতি। শাসকদলের প্রতি বিশেষ আনুকূল্য দেখানোর অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনার সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছে কংগ্রেস। সমাজবাদী পার্টি এবং ডিএমকে-র মতো ইন্ডিয়া জোটের শরিকরা এই সিদ্ধান্তে হাত মেলালেও, বড় প্রশ্ন উঠেছে তৃণমূল কংগ্রেসের অনুপস্থিতি নিয়ে। কেন কংগ্রেসের এই গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবে সই করল না তৃণমূল? জল্পনা যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই দলের অবস্থান স্পষ্ট করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, অনাস্থা প্রস্তাব আনার ব্যাপারে তৃণমূলের কোনো নীতিগত আপত্তি নেই। তবে তাঁদের কাজের ধরনে কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে। অভিষেকের কথায়, “আমরা চেয়েছিলাম প্রথমে স্পিকারকে একটি চিঠি পাঠাতে এবং তাঁকে আমাদের আপত্তির কথা জানাতে। এরপর কয়েকদিন সময় দেওয়া উচিত ছিল যে চিঠির ভিত্তিতে স্পিকার নিজের আচরণে কোনো পরিবর্তন আনছেন কি না বা কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন কি না।”

তৃণমূল সূত্রের খবর, সরাসরি সংঘাতে যাওয়ার আগে সংসদীয় শিষ্টাচার মেনে একটি সুযোগ দিতে চেয়েছিল মমতার দল। অভিষেক বলেন, “আমরা দেখতে চেয়েছিলাম চিঠির পর কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়। যদি তাতে কাজ না হতো, তবে অবশ্যই আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ নিতাম।” এই যুক্তি দিয়ে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে, তৃণমূল জোটের বিরোধী নয়, বরং কৌশলী পথে হাঁটায় বিশ্বাসী।

এদিকে কংগ্রেস, সপা এবং ডিএমকে মনে করছে, স্পিকারের বিরুদ্ধে এখনই কড়া পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। তাঁদের অভিযোগ, বিরোধী সাংসদদের কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে এবং ট্রেজারি বেঞ্চকে বাড়তি সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে তৃণমূলের এই ‘ধীরে চলো’ নীতি কি ইন্ডিয়া জোটের অন্দরে কোনো সমন্বয়হীনতা প্রকাশ করছে? উঠছে সেই প্রশ্নও। তবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মন্তব্য সেই বিতর্কে কিছুটা জল ঢেলেছে। এখন দেখার, চিঠির রাজনীতি শেষে তৃণমূল শেষমেশ কংগ্রেসের অনাস্থা প্রস্তাবে সরাসরি যোগ দেয় কি না।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy