ভারতে উচ্চ আয়ের মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ব্যক্তিগত সম্পদ। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে নিজেদের Assets Under Management (AUM) চার গুণেরও বেশি বৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করল ‘সিস্টেমেটিক্স প্রাইভেট ওয়েলথ’ (Systematix Private Wealth)। বর্তমানে সংস্থাটির AUM প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা, যা আগামী দিনে ৪০ হাজার কোটি টাকায় নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়েছে।
ভারতের সম্পদ বৃদ্ধির গল্প এখন এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে। বর্তমানে উচ্চ সম্পদশালী ব্যক্তিদের সংখ্যা বছরে প্রায় ১২ শতাংশ হারে বাড়ছে এবং তাদের মোট সম্পদের পরিমাণ ১ ট্রিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে। অথচ, উন্নত দেশগুলোর তুলনায় ভারতের সংগঠিত সম্পদ ব্যবস্থাপনা পরিষেবা এখনও অনেক পিছিয়ে। উন্নত বিশ্বে যেখানে ৬০-৭৫ শতাংশ সম্পদ প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনার আওতাধীন, ভারতে সেই হার মাত্র ১১-১২ শতাংশ। এই বিশাল ব্যবধানকেই নিজেদের বড় সুযোগ হিসেবে দেখছে সংস্থাটি।
সিস্টেমেটিক্স প্রাইভেট ওয়েলথ-এর জয়েন্ট ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও সিইও পার্থ সেনগুপ্তের কথায়, “উচ্চ সম্পদশালী ব্যক্তিদের হাতে থাকা সম্পদের সিংহভাগ এখনও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনার বাইরে। ভারতীয় বিনিয়োগকারীরা এখন তাঁদের সম্পদ পরিচালনায় স্বচ্ছতা, দক্ষতা এবং বিশ্বাসযোগ্যতা চাইছেন। সেই চাহিদাকে কেন্দ্র করেই আমরা পরিষেবা ঢেলে সাজাচ্ছি।” অন্য জয়েন্ট ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও সিইও ভাস্কর হাজরা জানান, শুধুমাত্র পণ্য বিক্রি নয়, সুশৃঙ্খল ‘অ্যাসেট অ্যালোকেশন’ (Asset Allocation) বা সম্পদ বণ্টনের ওপরই তাঁদের ব্যবসার মূল ভিত্তি।
সংস্থাটি মূলত তিনটি গ্রাহক শ্রেণিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে:
১. সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ও উচ্চ সম্পদশালী ব্যক্তি (ন্যূনতম ৫ কোটি বিনিয়োগ)।
২. ফ্যামিলি অফিস ও ব্যবসায়ী পরিবার (দীর্ঘমেয়াদী সম্পদ পরিকল্পনা)।
৩. কর্পোরেট ট্রেজারি বিভাগ (নগদ ও বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা)।
আল্ট্রা-এইচএনআই (Ultra-HNI) গ্রাহকদের ক্ষেত্রে ন্যূনতম বিনিয়োগের সীমা ২৫ কোটি টাকা রাখা হয়েছে।
বিনিয়োগ কৌশলে স্বচ্ছতা আনতে সংস্থাটি তাদের নিজস্ব ‘ইন-হাউস ফান্ড সিলেকশন মডেল’ ব্যবহার করছে। বাজারের ওঠানামা বা ব্যক্তিগত সম্পর্কের ওপর নির্ভর না করে গবেষণানির্ভর এই মডেলের মাধ্যমে সেরা পারফর্ম করা ফান্ড বাছাই করা সম্ভব হবে। দিল্লি, মুম্বই, কলকাতা, আহমেদাবাদ, ইন্দোর এবং পুনের মতো ৬টি শহরে ইতিমধ্যেই পরিষেবা চালু করেছে সংস্থাটি। আগামী পাঁচ বছরে সুরাত, জয়পুর, লখনউ, হায়দরাবাদ ও গোয়ার মতো দ্রুত বিকাশমান টিয়ার-টু (Tier-II) শহরগুলিতে ১৭টি নতুন কেন্দ্র খোলার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।
সংস্থার দাবি, ভারতের বাজারে এখনও প্রায় ৪০০ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ অনানুষ্ঠানিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে। এর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ যদি সংগঠিত ওয়েলথ ম্যানেজমেন্টের আওতায় আসে, তবে মিউচুয়াল ফান্ড, অলটারনেটিভ ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড এবং ডাইরেক্ট ইকুইটির মতো ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদী বড় বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হবে। দ্রুত বাড়তে থাকা আর্থিক সচেতনতা এবং পেশাদার পরামর্শের চাহিদাই আগামী দিনে ভারতের সম্পদ ব্যবস্থাপনার নতুন দিগন্ত খুলে দেবে বলে সিস্টেমেটিক্স নিশ্চিত।





