আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন থেকে সোজা অন্ধকারের পথে! ভদোদরা থেকে মুম্বই মাদক পাচারকালে জালে দুই অপরাধী

গুজরাতে মাদক পাচারের এক বড়সড় চক্রের সন্ধান মিলেছে, যেখানে প্রাক্তন এক বিমানসেবিকা-সহ দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এই সফল অভিযানে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা মূল্যের নিষিদ্ধ মেফেড্রোন বা এমডি মাদক উদ্ধার হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের দাবি, গুজরাত থেকে এই মাদক সংগ্রহ করে তা মুম্বইয়ে পাচারের পরিকল্পনা করেছিলেন অভিযুক্তরা।
পুলিশ সূত্রে প্রকাশ, ধৃতদের মধ্যে অন্যতম হলেন ৪১ বছরের মানসি আবদুল সৈয়দ, যিনি অতীতে পেশাদার বিমানসেবিকা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাঁর সঙ্গেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে ২০ বছরের তরুণ সোহেল শেখকে। ধৃতদের কাছ থেকে মোট ৯৭৭ গ্রাম মেফেড্রোন উদ্ধার করা হয়েছে, যার বর্তমান আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য আনুমানিক ২৯.৩২ লক্ষ টাকা।
গোপন সূত্রের খবরের ভিত্তিতে সুরাত ক্রাইম ব্রাঞ্চের ডিসিবি শাখা এই অভিযান চালায়। এই কার্যক্রমে সুরাত গ্রামীণ পুলিশের স্পেশাল অপারেশনস গ্রুপও পূর্ণ সহযোগিতা করে। অভিযুক্তদের আটকের পর তাঁদের হেফাজত থেকে বিপুল পরিমাণ ওই সিন্থেটিক মাদক উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্তরা জানিয়েছেন যে, তাঁরা মুম্বই থেকে একটি গাড়ি ভাড়া করে মাদক সংগ্রহের উদ্দেশ্যে ভদোদরায় গিয়েছিলেন। ভদোদরা স্টেশনের নিকটবর্তী এলাকা থেকে এক অজ্ঞাতপরিচয় মহিলার কাছ থেকে এই মাদকদ্রব্য সংগ্রহ করা হয়েছিল। তদন্তে আরও প্রকাশ পেয়েছে যে, মাদকগুলি মুম্বইয়ে পৌঁছানোর পর খুচরো বিক্রির জন্য ছোট ছোট প্যাকেটে বিভক্ত করার পরিকল্পনা ছিল।
তদন্তকারীদের অনুমান, গুজরাত থেকে নিরাপদে মুম্বইয়ে মাদক পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্বে ছিলেন এই দু’জন। তবে এই আন্তর্জাতিক বা আন্তঃরাজ্য পাচারচক্রের সঙ্গে আরও কোনো রাঘববোয়াল যুক্ত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযুক্তরা প্রকৃত অর্থে কার কাছ থেকে মাদক সংগ্রহ করেছিলেন এবং মুম্বইয়ে নির্দিষ্ট কার হাতে তা তুলে দেওয়ার কথা ছিল, সে বিষয়েও বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
পুলিশি তদন্তে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। জানা গেছে, অভিযুক্ত মানসি অতীতে প্রখ্যাত মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্সে কাজ করতেন এবং সেই সুবাদে বিভিন্ন দেশে যাতায়াত করেছিলেন। তদন্তকারী আধিকারিকরা জানিয়েছেন, মানসি দীর্ঘ এক দশক অর্থাৎ ২০১৫ সাল থেকে মাদক নেটওয়ার্কের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। তাঁর অপরাধের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে এবং এর আগে ২০২১ সালে মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরে প্রায় ১০০ গ্রাম মাদকসহ পুলিশের জালে ধরা পড়েছিলেন তিনি। ওই মামলায় তাঁকে প্রায় চার বছর কারাবাসও করতে হয়েছিল।
পুলিশ জানিয়েছে, ২০২১ সালের মামলার তদন্তকালে মধ্যপ্রদেশের একাধিক মাদক সরবরাহ চক্রের সঙ্গে মানসির প্রত্যক্ষ যোগসূত্রের সন্ধান মিলেছিল। বর্তমান ঘটনায় তাঁর সেই অতীত অপরাধের ইতিহাস এবং বর্তমান যোগসূত্র কতটা গভীর, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
মেফেড্রোন সাধারণত শহরাঞ্চলে ‘এমডি’ নামেই বেশি পরিচিত। এটি একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক ও নিষিদ্ধ সিন্থেটিক মাদক। যুবসমাজকে এর গ্রাস থেকে রক্ষা করতে এবং শহরে বেআইনি পাচার রোধে নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এই মাদক চোরাচালানের ঘটনায় একজন প্রাক্তন বিমানসেবিকার নাম জড়িয়ে পড়ায় দেশজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। ধৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের কঠোর ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।