ভারতের প্রতিরক্ষা ভাণ্ডারে যুক্ত হতে চলেছে এক নতুন ব্রহ্মাস্ত্র। আকাশপথে যুদ্ধের সংজ্ঞা বদলে দিতে এবার ৮০০ কিলোমিটার পাল্লার ‘ব্রহ্মোস-এ’ (BrahMos-A) সুপারসোনিক ক্রুজ মিসাইল তৈরির কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে এসেছে ডিআরডিও (DRDO)। বর্তমান ২০২৬ সালেই এই মিসাইলের গুরুত্বপূর্ণ ফ্লাইট টেস্ট বা উড্ডয়ন পরীক্ষা সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। এই ঘাতক ক্ষেপণাস্ত্রটি হাতে এলে ভারতীয় বায়ুসেনার সুখোই-৩০ এমকেআই (Sukhoi-30MKI) যুদ্ধবিমানগুলি আকাশ থেকেই শত্রুপক্ষের গভীরে সুদূরপাল্লার নিখুঁত আঘাত হানতে সক্ষম হবে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রে খবর, এই নতুন ব্রহ্মোস-এ মিসাইলের ওজন হবে প্রায় ২.৫ টন এবং দৈর্ঘ্য হবে ৬ মিটার। এর বিশেষত্ব হলো, পুরোনো মডেলের তুলনায় এর ওজন এবং আকার প্রায় একই রাখা হয়েছে, যাতে সুখোই বিমানের কোনো বড়সড় যান্ত্রিক রদবদল ছাড়াই এটি বহন করা যায়। তবে এর ইঞ্জিন এবং প্রপালশন সিস্টেমে আনা হয়েছে আমূল পরিবর্তন। অত্যাধুনিক র্যামজেট ইঞ্জিনের (Ramjet Engine) মাধ্যমে এর পাল্লা প্রায় দ্বিগুণ বাড়িয়ে ৮০০ কিলোমিটার করা হচ্ছে। এর আগে ব্রহ্মোসের পাল্লা ছিল প্রায় ২৯০ থেকে ৪৫০ কিলোমিটার।
২০২৫ সালেই এই মিসাইলের কিছু প্রাথমিক পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছিল। ২০২৬-এর মধ্যে এর ইন্টিগ্রেশন এবং ফুল-স্কেল ফ্লাইট ট্রায়াল শেষ হলে ২০৩০ সালের আগেই সেনাবাহিনীতে এর অন্তর্ভুক্তি শুরু হয়ে যাবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ক্ষেপণাস্ত্রটি ভারতের ‘অ্যাটমানির্ভর ভারত’ অভিযানের এক শ্রেষ্ঠ নিদর্শন। একবার সুখোই থেকে এটি উৎক্ষেপণ করা হলে শব্দের চেয়ে প্রায় তিন গুণ গতিতে (ম্যাক ৩) ছুটে গিয়ে লক্ষ্যবস্তুকে গুঁড়িয়ে দেবে এটি। এর ফলে সীমান্ত না পেরিয়েই শত্রুর হাই-ভ্যালু টার্গেটগুলোতে আঘাত হানার ক্ষমতা কয়েক গুণ বেড়ে যাবে ভারতের।