আকাশযুদ্ধে ভারতকে দুর্বল করতে পারে পাকিস্তান! মিগ-২১ অবসর নিলেও সময়মতো আসছে না তেজস, IAF-এর কপালে কেন চিন্তার ভাঁজ?

ভারতীয় বিমানবাহিনীর (IAF) মেরুদণ্ড মিগ-২১ যুদ্ধবিমানগুলি সম্প্রতি পর্যায়ক্রমে অবসর নিয়েছে, যা দেশের বিমানশক্তিতে একটি বড় শূন্যতা তৈরি করেছে। বিমানবাহিনীকে যেখানে ৪২টি ফাইটার স্কোয়াড্রনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, সেখানে বর্তমানে তাদের হাতে রয়েছে মাত্র ২৯টি স্কোয়াড্রন। এই সংকটজনক পরিস্থিতিতে, দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি তেজস এমকে ১এ যুদ্ধবিমান সময়মতো হাতে না আসায় হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেডের (HAL) বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে IAF।
জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ, HAL-কে তুলোধোনা
ফেব্রুয়ারিতে বেঙ্গালুরুর অ্যারো ইন্ডিয়া শোতে বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল অমর প্রীত সিং হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেডের শীর্ষ কর্মকর্তাদের প্রতি ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন HAL প্রতিশ্রুত ৮৩টি তেজস এমকে ১এ জেট সরবরাহে অগ্রাধিকার দিচ্ছে না? এই গা-ঢিলে দেওয়া মনোভাবের তীব্র নিন্দা করে তিনি এটিকে জাতীয় সুরক্ষার প্রতি চরম উদাসীনতা বলে অভিহিত করেন।
২০২১ সাল থেকে HAL-এর কাছে ৮৩টি তেজস Mk 1A যুদ্ধবিমানের ৪৭,০০০ কোটি টাকার অর্ডার রয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৪ সালে সরবরাহ শুরু হয়ে ২০২৮ সালে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও, এখনও পর্যন্ত একটিও জেট ডেলিভারি হয়নি।
বিলম্বের কারণ: আমেরিকান ইঞ্জিন?
তেজস সরবরাহের ক্ষেত্রে মূল সমস্যাটি হল যুদ্ধবিমানের জন্য প্রয়োজনীয় আমেরিকার জিই অ্যারোস্পেস (GE Aerospace) থেকে ইঞ্জিন সংগ্রহ। HAL-এর দাবি, বিমানের কাঠামো প্রস্তুত থাকলেও, ইঞ্জিনের সরবরাহ শৃঙ্খলে সমস্যার কারণে চূড়ান্ত ডেলিভারি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
এখনও পর্যন্ত HAL-এর হাতে এসেছে মাত্র তিনটি ইঞ্জিন। জিই অ্যারোস্পেস ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যে আরও ১২টি ইঞ্জিন সরবরাহ করবে বলে আশা করা হচ্ছে, আর চুক্তি অনুযায়ী মোট ৯৯টি ইঞ্জিন আসবে ২০২৮ সালের মধ্যে। কিন্তু দেশের প্রতিরক্ষার প্রয়োজনে সরকার কি ততদিন অপেক্ষা করে থাকতে পারবে?
অন্ধকারে ভারত, সুযোগের অপেক্ষায় পাকিস্তান-চিন
একদিকে যখন মিগ-২১-এর মতো ঐতিহাসিক যুদ্ধবিমানগুলি (যারা ১৯৭১ যুদ্ধ থেকে শুরু করে কার্গিল, বালাকোট এবং ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল) অবসর নিচ্ছে, তখন বিমানবাহিনীর শক্তি কমে যাচ্ছে।
ভারতের ২৯টির তুলনায় পাকিস্তানের হাতে রয়েছে ২৫টি ফাইটার স্কোয়াড্রন। তবে পাকিস্তান ৩৫ থেকে ৪০টি অত্যাধুনিক জে-৩৫ পঞ্চম প্রজন্মের জেট কেনার জন্য চিনের সঙ্গে চুক্তিও স্বাক্ষর করেছে। এই পরিস্থিতিতে, IAF-এর অনুমোদিত শক্তি ও বর্তমান শক্তির মধ্যেকার ব্যবধান দেশের নিরাপত্তাকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে।
তবে আশার আলোও রয়েছে। সরকার সম্প্রতি HAL-এর সঙ্গে আরও ৯৭টি LCA Mk1A-এর জন্য ৬৬,৫০০ কোটি টাকার বিশাল চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এটি ‘আত্মনির্ভরতা’-র দিকে একটি বড় পদক্ষেপ, কারণ এই বিমানে ৬৪ শতাংশেরও বেশি দেশীয় সামগ্রী থাকবে। কিন্তু প্রশ্নটি রয়েই গেল, এই ১৮০টি যুদ্ধবিমান কি নির্ধারিত সময়ে IAF-এর হাতে পৌঁছাবে?