আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে এখন ড্রোন বা মানবরহিত যানের গুরুত্ব অপরিসীম। বিশেষ করে ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে যে, নির্ভুল নিশানার জন্য ড্রোনের কোনো বিকল্প নেই। এই পরিস্থিতিতে নিজেদের শক্তি কয়েক গুণ বাড়িয়ে নিতে বড় পদক্ষেপ নিল ভারতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। জানা গেছে, ভারতীয় বায়ুসেনা (IAF) এবং স্থলবাহিনীর বহরে যুক্ত হতে চলেছে ১৫০টি দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ‘ঘাতক’ (Ghatak) স্টেলথ ড্রোন বা রিমোটলি পাইলটেড স্ট্রাইক এয়ারক্রাফ্ট (RPSA)।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে (DAC) এই বিশাল ক্রয়ের পরিকল্পনাটি সবুজ সংকেত পেয়েছে। প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, এই ১৫০টি ড্রোনের মধ্যে ১০০টি পাবে ভারতীয় সেনাবাহিনী এবং ৫০টি দেওয়া হবে বায়ুসেনাকে। এর বিশেষত্ব হলো এর ‘ফ্লাইং-উইং’ ডিজাইন, যা একে শত্রুর রাডার থেকে আড়ালে রাখে। ফলে এটি অতি গোপনে শত্রুর আকাশসীমায় ঢুকে নির্ভুল হামলা চালিয়ে ফিরে আসতে সক্ষম।
ডিআরডিও (DRDO)-র তৈরি এই ড্রোনটি সম্পূর্ণভাবে ‘আত্মনির্ভর ভারত’ প্রকল্পের ফসল। এটি কেবল নজরদারি চালাবে না, বরং এতে থাকছে নিজস্ব মিসাইল এবং বোমাবাহী ইন্টারনাল ওয়েপন বে। অর্থাৎ, এটি একটি পূর্ণাঙ্গ চালকহীন যুদ্ধবিমান। ২০২৬ সালের মধ্যে এর ফুল-স্কেল প্রোটোটাইপ বা পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, তেজস মার্ক-২ বা আমকা (AMCA) যুদ্ধবিমানের সাথে ‘লয়াল উইংম্যান’ হিসেবে কাজ করবে এই ঘাতক ড্রোন, যা ভারতের আকাশসীমা রক্ষায় এক নতুন দিগন্ত খুলে দেবে।