বিশ্ব রাজনীতির ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব এবং রক্তক্ষয়ী অধ্যায়ের সূচনা হলো। অবশেষে দীর্ঘ জল্পনার অবসান ঘটিয়ে ইরান সরকার স্বীকার করে নিল যে, সেদেশের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেই আর বেঁচে নেই। ইজরায়েল ও আমেরিকার এক যৌথ এবং অতর্কিত বিমান হামলায় খামেনেইর মৃত্যু হয়েছে। রবিবার সকালে ইরানের স্টেট টেলিভিশন (IRIB) এই খবর নিশ্চিত করার পর থেকেই গোটা বিশ্বে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, খামেনেই ‘শহিদ’ হয়েছেন এবং দেশে ৪০ দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত শনিবার ভোরে, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে দাবি করেন যে, খামেনেইকে খতম করা হয়েছে। ট্রাম্প একে “ইরানি জনগণের জন্য মুক্তির সেরা সুযোগ” বলে অভিহিত করেছিলেন। প্রথমে ইরান এই খবর অস্বীকার করলেও, পরে স্টেট টিভির পক্ষ থেকে জানানো হয় যে তেহরানে খামেনেইর বাসভবন লক্ষ্য করে চালানো শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। শুধু খামেনেই নন, এই হামলায় তাঁর মেয়ে, নাতনি এবং জামাতাও নিহত হয়েছেন বলে খবর। এছাড়াও ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী এবং রেভোলিউশনারি গার্ডসের শীর্ষ কমান্ডার মহম্মদ পাকপুর সহ প্রায় ৪০ জন উচ্চপদস্থ আধিকারিক এই হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে।
এই হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ইরানের পক্ষ থেকে পাল্টা প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি দিয়ে দুবাই, দোহা এবং বাহরাইনের মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, ইরানের পরমাণু কেন্দ্র এবং ব্যালিস্টিক মিসাইল সিস্টেম ধ্বংস না করা পর্যন্ত এই অভিযান থামবে না। খামেনেইর মৃত্যুর পর ইরানে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, যেখানে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং বিচারবিভাগের প্রধান একটি অন্তর্বর্তীকালীন কাউন্সিল গঠন করেছেন। এখন প্রশ্ন উঠছে, খামেনেইর পর কে হবেন পরবর্তী শাসক? নাকি এই ডামাডোলের সুযোগে ইরানে শুরু হবে গৃহযুদ্ধ অথবা শাসন ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন? সময়ের অপেক্ষা এখন কেবল পরবর্তী ধ্বংসলীলার।