ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ইজরায়েল সফর ছিল আধুনিক কূটনীতির ইতিহাসে এক অনন্য অধ্যায়। কিন্তু সেই সফরের থেকেও বেশি চর্চায় ছিল প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ বিমান ‘এয়ার ইন্ডিয়া ওয়ান’। যখন গোটা বিশ্ব যুদ্ধের আবহে ইজরায়েলের আকাশপথকে ‘বিপজ্জনক’ তকমা দিয়েছিল, তখন ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বিমানটি কীভাবে সমস্ত বাধা পেরিয়ে তেল আভিভে অবতরণ করল, তা নিয়ে আজও কৌতূহলের শেষ নেই আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের।
পেশাদার সাংবাদিকতার নিরিখে দেখতে গেলে, এই সফরটি কেবল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়ন ছিল না, বরং ভারতের কৌশলগত শক্তির এক বিশাল প্রদর্শনী ছিল। এয়ার ইন্ডিয়া ওয়ান যখন ভারতের মাটি ছেড়ে ইজরায়েলের উদ্দেশ্যে ওড়ে, তখন বিশ্বের একাধিক দেশের রেডার এবং ট্র্যাকিং সাইটগুলোর নজর ছিল ওই একটি বিন্দুর ওপর। বিশেষ করে যুদ্ধবিমান এবং অত্যাধুনিক মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেমের ঘেরাটোপে থাকা ইজরায়েলি আকাশসীমায় একটি বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানের বিমানের প্রবেশ ছিল অত্যন্ত সংবেদনশীল।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এয়ার ইন্ডিয়া ওয়ান কোনো সাধারণ বিমান নয়। এটি স্বয়ংসম্পূর্ণ একটি দুর্গের মতো, যা মাঝ আকাশে শত্রু মিসাইলকে জ্যাম করে দিতে সক্ষম। মোদীর এই সফরের সময় বিমানটির সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ভারত ও ইজরায়েল—উভয় দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ২৪ ঘণ্টা সক্রিয় ছিল। গাজা বা লেবানন সীমান্ত থেকে কোনো রকম উস্কানি যাতে প্রধানমন্ত্রীর বিমানের গতিপথে বাধা না হতে পারে, তার জন্য আকাশপথে এক অদৃশ্য দেওয়াল তৈরি করা হয়েছিল। এই সফরটি প্রমাণ করে দিয়েছিল যে, বৈশ্বিক রাজনীতিতে ভারতের গুরুত্ব এবং মোদীর ব্যক্তিগত ক্যারিশমা কোন পর্যায়ে পৌঁছেছে।