আইসিসি কি তবে ধূলিসাৎ হতে চলেছে? যুদ্ধাপরাধ তদন্তের জেরে ট্রাম্প প্রশাসনের চরম কষে আঘাত, বিশ্বজুড়ে তুমুল শোরগোল।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)-র প্রেসিডেন্ট জাপানের তোমোকো আকানে এবং সিনিয়র আইনজীবী সেনেগালের আবদুলায়ে সেয়ের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দিয়েছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের এই আকস্মিক পদক্ষেপে বিশ্ব রাজনীতিতে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। যুদ্ধাপরাধ তদন্তের ক্ষমতাসম্পন্ন এই আদালতকে ভেঙে দেওয়ার লক্ষ্যেই মূলত এমন কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। বিশ্বের ১২০টিরও বেশি দেশ আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ বিচারের জন্য এই আদালতের সদস্য হলেও, মার্কিন প্রশাসন একে একটি দুর্নীতিগ্রস্ত ও রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে অভিহিত করেছে।

মার্কো রুবিও এক বিস্ফোরক বিবৃতিতে অভিযোগ করেন যে, আইসিসি ইচ্ছাকৃতভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছে এবং এমন সরকারি কর্মকর্তাদের বিচারের আওতায় আনার চেষ্টা চালিয়েছে, যাদের সরকার আদালতের এখতিয়ার মানে না। আফগানিস্তানে মার্কিন সেনা ও কর্মকর্তাদের নিয়ে তদন্ত এবং গাজায় সংঘটিত কথিত যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুসহ ইসরায়েলের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির প্রতিশোধ হিসেবেই এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞার ফলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সম্পদ জব্দ, ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এবং মার্কিন কোম্পানিগুলোর সেবা পাওয়ার ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

আইসিসি এক তাৎপর্যপূর্ণ প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছে যে, তারা তাদের কর্মীদের পাশে দৃঢ়ভাবে আছে। আদালতের মতে, রুবিও ঘোষিত এই পদক্ষেপ আইনের শাসনকে মারাত্মকভাবে দুর্বল করবে এবং বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক আইনি ব্যবস্থাকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলবে। এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন আইসিসির অন্তত ১১ জন কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল, যার মধ্যে ৯ জন বিচারক ও প্রধান প্রসিকিউটরও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল উভয় দেশই আইসিসির সদস্য না হওয়া সত্ত্বেও ফিলিস্তিন রাষ্ট্র ২০১৫ সালে এর সদস্যপদ লাভ করায় ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে সংঘটিত অপরাধের তদন্তের পথ উন্মুক্ত হয়।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো ট্রাম্প প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থানের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, ওপেন সোসাইটি ইনস্টিটিউটসহ চারটি শীর্ষস্থানীয় মার্কিন মানবাধিকার সংগঠন এবং আইসিসির বিচারকরা মার্কিন প্রশাসনের বিরুদ্ধে নিউইয়র্কের আদালতে ইতিমধ্যে মামলা দায়ের করেছেন। তাদের অভিযোগ, আইসিসিকে ভেঙে দেওয়ার এই চক্রান্ত সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক এবং এটি আন্তর্জাতিক আইনকে ধূলিসাৎ করার এক গভীর ষড়যন্ত্র। তা সত্ত্বেও ট্রাম্প প্রশাসন তাদের সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক মহলে এই সংঘাত এখন চরম আকার ধারণ করেছে।