মঙ্গলবার সকাল থেকেই রাজনৈতিক মহলের নজর ছিল দেশের শীর্ষ আদালতের দিকে। আইপ্যাক (I-PAC) অফিসে ইডির তল্লাশি এবং নথিপত্র সংক্রান্ত মামলায় সুপ্রিম কোর্ট কী নির্দেশ দেয়, তা নিয়ে চলছিল টানটান উত্তেজনা। তবে শেষ পর্যন্ত পিছিয়ে গেল বহুল চর্চিত এই মামলার শুনানি। তৃণমূলের পক্ষের আইনজীবী কপিল সিব্বল অসুস্থ থাকায় তাঁর পক্ষ থেকে শুনানি স্থগিতের আবেদন জানানো হয়।
বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র ও বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলির ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হওয়ার কথা ছিল। সিব্বলের অসুস্থতার কারণে তাঁর জুনিয়ার আইনজীবী সময় চাইলে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা তাতে কোনো আপত্তি জানাননি। পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি।
পুরানো বিতর্ক ও ইডির অভিযোগ: ঘটনার সূত্রপাত গত ৮ জানুয়ারি। ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাক-এর অফিসে তল্লাশি চালাচ্ছিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। অভিযোগ ওঠে, তল্লাশি চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ওই অফিসে ঢুকে বেশ কিছু ফাইল নিয়ে বেরিয়ে যান। ইডির দাবি, মুখ্যমন্ত্রী কেন্দ্রীয় সংস্থার কাজে বাধা দিয়েছেন এবং সরকারি নথি ‘ছিনতাই’ করেছেন। এই গুরুতর অভিযোগ ঘিরেই মামলা পৌঁছায় সর্বোচ্চ আদালতে।
রাজনৈতিক চাপানউতোর: বারবার শুনানি পিছিয়ে যাওয়ায় আক্রমণ শানিয়েছে বিজেপি। বিজেপি মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার খোঁচা দিয়ে বলেন, “অসুস্থতার বিরোধিতা করছি না, তবে মামলা চললে হয়ত রাজ্য সরকারই অসুস্থ হয়ে পড়ত।” পাল্টা জবাবে তৃণমূল নেতা জয়প্রকাশ মজুমদার জানিয়েছেন, কপিল সিব্বল সত্যিই অসুস্থ এবং তিনি অন্য কোনো কোর্টেও এদিন অংশ নেননি। এখন দেখার, আগামী মঙ্গলবার এই হাই-প্রোফাইল মামলায় আইপ্যাক ও নবান্নকে স্বস্তি দেয় কি না সুপ্রিম কোর্ট।