বর্তমানে ‘স্পেশাল ইন্টারনাল রিভিশন’ বা SIR প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে গোটা পশ্চিমবঙ্গ। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে এই প্রক্রিয়া নিয়ে বিক্ষোভ এবং বিশৃঙ্খলার খবর সামনে আসছে। এই পরিস্থিতির গুরুত্ব বিচার করে সরাসরি ময়দানে নামলেন দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, “SIR প্রক্রিয়া চলাকালীন রাজ্যের কেউ যদি আইন হাতে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করে, তবে কমিশন কঠোরতম ব্যবস্থা নেবে।”
প্রশাসনিক স্তরে কড়া নির্দেশ SIR-এর দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ শুরু হতেই রাজ্যের মুখ্যসচিব, পুলিশের ডিজিপি এবং কলকাতা পুলিশের কমিশনারকে জরুরি চিঠি পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েত ভবন, মহকুমা অফিস এবং ব্লক অফিসগুলিতে SIR হিয়ারিং বা শুনানির আয়োজন করতে হবে। কমিশন সাফ জানিয়েছে, এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সামলাতে রাজ্য সরকারকে পর্যাপ্ত কর্মী এবং নিরাপত্তারক্ষী প্রদান করতে হবে। বিশেষ করে হিয়ারিং কেন্দ্রগুলিতে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, তার জন্য ডিএম (DM) এবং এসপি-দের (SP) বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
১২ জন নতুন রোল অবজার্ভার নিয়োগ বাংলার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে আরও একধাপ এগিয়েছে কমিশন। স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং নির্ভুল ভোটার তালিকা তৈরির লক্ষ্যে রাজ্যে আরও ১২ জন নতুন ‘রোল অবজার্ভার’ নিয়োগ করা হয়েছে। এর ফলে রাজ্যে মোট রোল অবজার্ভারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৮। কেন্দ্রীয় স্তরের এই আধিকারিকরা সরাসরি শুনানির প্রক্রিয়া এবং অভিযোগ খতিয়ে দেখার কাজ তদারকি করবেন।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ ও বড় স্বস্তি সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক নির্দেশের পর নিজেদের অবস্থানে বদল এনেছে নির্বাচন কমিশন। আগে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডকে বয়সের প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করতে অস্বীকার করলেও, এখন শীর্ষ আদালতের চাপে তা মেনে নিয়েছে কমিশন। ফলে এখন থেকে ভোটাররা শুনানিতে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড জমা দিতে পারবেন। এছাড়াও, ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’র আওতায় থাকা ভোটারদের নামও জনসমক্ষে প্রকাশ করার নির্দেশ মেনে নেওয়া হয়েছে। মূলত স্বচ্ছতা ফেরাতে এবং সাধারণ মানুষের হয়রানি কমাতে কমিশনের এই অতি-সক্রিয়তা এখন নজর কেড়েছে রাজনৈতিক মহলে।