অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড ছাড়াই মিলবে পেনশন! ডেস্কের সাংবাদিকদের জন্যও বড় সুবিধা দিল রাজ্য সরকার

নবান্নে সাংবাদিকদের জন্য পেনশন ও স্বাস্থ্যবিমা যোজনার এক ঐতিহাসিক সূচনা করা হয়েছে। রাজ্য সরকারের এই যুগান্তকারী পদক্ষেপে সাংবাদিকদের দীর্ঘদিনের সামাজিক সুরক্ষার দাবি অনেকাংশেই পূরণ হতে চলেছে। এদিনের অনুষ্ঠানে জানানো হয়েছে যে, অবসরপ্রাপ্ত সাংবাদিকরা এখন থেকে প্রতি মাসে ৫ হাজার টাকা করে পেনশন পাবেন। শুধু তাই নয়, এই প্রকল্পের পরিধি অনেকটাই বাড়ানো হয়েছে যাতে আরও বেশি সংখ্যক সংবাদকর্মী এর সুফল ভোগ করতে পারেন।
রাজ্য সরকারের এই নতুন ঘোষণায় সবচেয়ে বড় স্বস্তি মিলছে সেই সমস্ত সংবাদকর্মীদের জন্য যাদের অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড নেই। এতদিন ধরে শুধু অ্যাক্রিডিটেশন কার্ডধারীদের জন্যই বিভিন্ন সরকারি সুযোগ-সুবিধার দরজা খোলা থাকত। তবে নতুন এই পেনশন প্রকল্পে সেই জটিলতা রাখা হয়নি। নির্দিষ্ট কিছু শর্ত ও যোগ্যতা পূরণ করতে পারলে অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড না থাকা সাংবাদিকরাও এই পেনশনের জন্য আবেদন করতে পারবেন। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকতা পেশার সঙ্গে যুক্ত থেকেও কার্ডের অভাবে যারা সুযোগ পেতেন না, তাদের দীর্ঘদিনের আক্ষেপ দূর হবে।
পাশাপাশি, এই প্রকল্পের অন্যতম বড় আকর্ষণ হলো ডেস্ক সাংবাদিকদের অন্তর্ভুক্তি। এতদিন মাঠে নেমে রিপোর্টিং করা সাংবাদিকদের বিভিন্ন সুবিধার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার মিললেও ডেস্কের কর্মীরা কিছুটা উপেক্ষিতই থাকতেন। সংবাদপত্র, ইলেকট্রনিক মিডিয়া কিংবা নিউজ পোর্টালের ডেস্কে বসে যারা নিরলসভাবে সংবাদ সম্পাদনা, তথ্য যাচাই, হেডলাইন তৈরি এবং সংবাদ প্রকাশের গুরুদায়িত্ব সামলান, তারাও এবার নির্দিষ্ট যোগ্যতা সাপেক্ষে পেনশনের আওতাভুক্ত হয়েছেন। ফিল্ড রিপোর্টারদের পাশাপাশি ডেস্কের পেশাদারদের এই স্বীকৃতি সংবাদমহলে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে।
আর্থিক পেনশনের পাশাপাশি রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের জন্য বিশেষ স্বাস্থ্যবিমা যোজনারও সূচনা করা হয়েছে। সাংবাদিক এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসাগত খরচ ও স্বাস্থ্যজনিত দুশ্চিন্তা কমাতে এই বিমা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। পেশাগত জীবনের ঝুঁকি এবং অবসর-পরবর্তী আর্থিক অনিশ্চয়তা দূর করতে পেনশন এবং স্বাস্থ্যবিমা—উভয় সামাজিক সুরক্ষার একসঙ্গে উপস্থিতি সাংবাদিকদের জীবনকে অনেকটাই স্বস্তিদায়ক করে তুলবে বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে হলে সাংবাদিকদের ঠিক কত বছর অভিজ্ঞতা থাকতে হবে, কী কী সুনির্দিষ্ট যোগ্যতা প্রয়োজন, আবেদনের সঠিক পদ্ধতি কী এবং কোন কোন নথিপত্র জমা দিতে হবে, সে বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে খুব শীঘ্রই একটি বিস্তারিত নির্দেশিকা প্রকাশ করা হবে। সেই নির্দেশিকা প্রকাশিত হলেই সমগ্র বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে যাবে এবং আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করা সম্ভব হবে।