“ফোনের সব নিয়ন্ত্রণ চলে যাবে হ্যাকারদের হাতে!” ইনস্টাগ্রামের সুনির্দিষ্ট বিজ্ঞাপনে লুকিয়ে থাকা ৫ বিপজ্জনক অ্যাপ নিয়ে তোলপাড়

দেশের সাধারণ নাগরিক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের সুরক্ষার স্বার্থে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং জরুরি সতর্কবার্তা জারি করল কেন্দ্রীয় সরকার। সোমবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনস্থ ন্যাশনাল সাইবারক্রাইম থ্রেট অ্যানালিটিক্স ইউনিট (NCTAU)-এর তরফে একটি বিশেষ অ্যাডভাইসরি প্রকাশ করা হয়েছে। ওই নির্দেশিকায় স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, একশ্রেণির সাইবার অপরাধী পর্নোগ্রাফি অ্যাপের আড়ালে অত্যন্ত বিপজ্জনক ম্যালওয়্যার ছড়িয়ে সাধারণ মানুষকে সর্বস্বান্ত করার ভয়ঙ্কর ফাঁদ পেতেছে। বিশেষ করে ফেসবুক এবং ইনস্টাগ্রামের মতো মেটা (Meta)-র বিভিন্ন জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে লোভনীয় বিজ্ঞাপন দেখিয়ে এই ক্ষতিকারক অ্যাপগুলি ছড়ানো হচ্ছে।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের প্রকাশিত ওই অ্যাডভাইজরিতে মূলত বেশ কিছু নির্দিষ্ট ম্যালওয়্যারযুক্ত অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— Night Play, Reloop, Kyss, Vimo, Rivo, Nexo এবং Vixa। এই নির্দিষ্ট নামগুলি ছাড়াও এই ধরনের সমতুল্য বা অন্য নামে থাকা যেকোনো অজানা থার্ড-পার্টি অ্যাপ থেকে কঠোরভাবে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে সাইবার সেল। তদন্তে দেখা গেছে, এই অ্যাপগুলির কোডের ভেতরে অত্যন্ত শক্তিশালী ম্যালওয়্যার লুকিয়ে থাকে, যা মুহূর্তের মধ্যে ইউজারের সম্পূর্ণ ডিভাইসের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কব্জায় নিয়ে নিতে পারে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সাইবার ইউনিট জানিয়েছে, এই প্রতারণা চক্রটি অত্যন্ত সুকৌশলে তাদের কাজ চালায়। প্রথমে সোশ্যাল মিডিয়ায় আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন দেখে কোনো ব্যবহারকারী যখন ওই পর্নোগ্রাফি অ্যাপগুলি নিজের ফোনে ডাউনলোড করেন, তখন তাঁদের ভিডিও ও ফটোর মতো বিভিন্ন কন্টেন্ট অ্যাক্সেস করার জন্য একটি থার্ড-পার্টি APK ফাইল ডাউনলোড করার জোরদার নির্দেশ দেওয়া হয়। আর এই APK ফাইলটিই হলো আসল ম্যালওয়্যারের আধার। অনেক ক্ষেত্রে অ্যাপটি ইনস্টল করার ঠিক পরেই তা আপডেট করার একটি ভুয়া পপ-আপ প্রম্পট আসে। ব্যবহারকারী সেই আপডেটে ক্লিক করলেই ব্যাকগ্রাউন্ডে ম্যালওয়্যার ফাইলটি গোপনে ডিভাইসে ঢুকে পড়ে।

শুধু তাই নয়, এই ম্যালওয়্যার ফাইলগুলি ডাউনলোড হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই অনেক সময় ডিভাইসে একটি অজানা VPN প্রক্সি ডাউনলোড হয়ে যায়, যা ইউজারের সমস্ত ইন্টারনেট ট্রাফিককে সোজা হ্যাকারদের রিমোট সার্ভারের মধ্য দিয়ে রুট করতে শুরু করে। এর ফলে অপরাধীরা নিমেষেই ক্ষতিগ্রস্ত ইউজারের ডিভাইসের সম্পূর্ণ রিমোট অ্যাকসেস পেয়ে যায়। এছাড়া ইনস্টল করার সময় এই অ্যাপগুলি ফোনের গুরুত্বপূর্ণ ক্যামেরা, কন্ট্যাক্টস বা স্টোরেজের মতো সংবেদনশীল ফিচারগুলির অ্যাক্সেসের অনুমতি বা পারমিশন চেয়ে বসে, যার সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ চলে যায় সাইবার হামলাকারীদের হাতে।

যেহেতু এই বিপজ্জনক অ্যাপগুলি গুগল প্লে-স্টোর (Play Store)-এর মতো সুরক্ষিত প্ল্যাটফর্মে তালিকাভুক্ত থাকে না, তাই এগুলি গুগলের নিজস্ব নিরাপত্তা বেষ্টনী বা সিকিউরিটি চেক খুব সহজেই এড়িয়ে যেতে সক্ষম হয়। এই প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে জোরালো পরামর্শ দিয়ে জানানো হয়েছে যে, কোনো অবস্থাতেই অপরিচিত বা থার্ড-পার্টি সোর্স থেকে এই ধরনের ক্ষতিকারক অ্যাপ ডাউনলোড করা উচিত নয়। নাগরিকদের শুধুমাত্র অফিশিয়াল গুগল প্লে-স্টোর অথবা অ্যাপল অ্যাপ স্টোর থেকে যাচাইকৃত অ্যাপগুলি ডাউনলোড করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, অন্যথায় বড় ধরনের আর্থিক প্রতারণা ও গোপনীয়তা হারানোর মারাত্মক ঝুঁকি থেকে যাবে।