অস্থির নেপালের হাল ধরলেন প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী সুশীলা কার্কি, ৬ মাস পর ফিরিয়ে দেবেন ক্ষমতা!

বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন অবস্থান নিয়েছেন নেপালের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান সুশীলা কার্কি। সদ্য গঠিত এই অন্তর্বর্তী সরকার দেশের অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলার পর ক্ষমতায় এলেও সুশীলা স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, তিনি এবং তার দল ক্ষমতা দীর্ঘমেয়াদী ভোগ করার জন্য আসেননি। আগামী ছয় মাসের মধ্যে নতুন সরকারের হাতে তারা ক্ষমতা তুলে দেবেন।
ইউনূসের সঙ্গে ভিন্নতা
বাংলাদেশে গত ৮ আগস্ট প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নেওয়ার পর মুহাম্মদ ইউনূস নির্বাচনের দিনক্ষণ নিয়ে কোনো স্পষ্ট বার্তা দিতে পারেননি। তার প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, সংবিধান ও নির্বাচনী ব্যবস্থার সংস্কারের জন্য কয়েক বছর সময় লাগতে পারে। তবে নেপালে পরিস্থিতি ভিন্ন। সেখানে আগাম ঘোষণা মতোই আগামী ২১ মার্চ নির্বাচন হবে এবং সুশীলা কার্কি তার সরকারকে ৬ মাসের জন্য অন্তর্বর্তী সরকার বলে ঘোষণা করেছেন।
আন্দোলনকারীদের জন্য সুশীলার ঘোষণা
নেপালের অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর সুশীলা কার্কি জানান, সরকার-বিরোধী আন্দোলনে যারা ভাঙচুর ও ধ্বংসযজ্ঞের সঙ্গে জড়িত ছিল, তাদের শাস্তি দেওয়া হবে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন যে, জেন জির প্রতিবাদীরা এই ধরনের অপরাধমূলক কাজে জড়িত ছিলেন না, বরং এটি একটি সুসংগঠিত অপরাধ।
পাশাপাশি, তিনি আরও ঘোষণা করেছেন যে, আন্দোলনে যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের ‘শহিদ’ মর্যাদা দেওয়া হবে এবং মৃতদের পরিবারকে নেপালি মুদ্রায় ১০ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।
নেপালের বর্তমান পরিস্থিতি
গত ৮-৯ সেপ্টেম্বর নেপালে সরকার-বিরোধী আন্দোলনে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় পুড়িয়ে দেওয়াসহ ব্যাপক ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এই বিক্ষোভের মুখে কেপি শর্মা ওলি প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেন। এরপরই দেশটির সামরিক বাহিনী ক্ষমতা গ্রহণ করে। শুক্রবার রাতে নেপালের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সুশীলা কার্কি (৭৩) অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে শপথ নেন। তার সঙ্গে আরও তিনজন মন্ত্রীকে শপথ করানো হয়— কুলমান ঘিসিং, রামেশ্বর খানাল এবং ওমপ্রকাশ আরয়াল।
নিজের দফতরে প্রথম কার্যদিবসে সুশীলা কার্কি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানেই তিনি বলেন, “আমি এবং আমার দল ক্ষমতা উপভোগ করতে আসিনি। আমরা ছয় মাসের বেশি থাকব না। আমরা নতুন সংসদের হাতে দায়িত্ব হস্তান্তর করব।”
নেপালের এই চরম বিশৃঙ্খলার মুহূর্তে আইন-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচন পরিচালনা করাই এখন তার প্রধান চ্যালেঞ্জ। প্রথম মহিলা প্রধান বিচারপতি হিসেবে নেপালে সুশীলা কার্কির একটি বিশেষ সম্মান রয়েছে, আর এখন প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী হিসেবেও তিনি ইতিহাস গড়লেন।